ভারতের রাজধানী দিল্লির মদনপুর খাদর এলাকায় নিশা (১৯) নামে এক মুসলিম তরুণীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিশার পরিবারের অভিযোগ, তার হিন্দু স্বামী অঙ্কিত এবং আরও কয়েকজন মিলে নিশাকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ অঙ্কিতকে গ্রেফতার করলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক থাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দিল্লির মদনপুর খাদর এলাকায় ১৯ বছর বয়সী তরুণী নিশার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অঙ্কিত ও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর আগে নিজের পরিবার ছেড়ে অঙ্কিতকে বিয়ে করেছিলেন নিশা। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই নিশার ওপর লাগাতার নির্যাতন চালানো হতো এবং মৃত্যুর আগেও তাঁকে চরমভাবে মারধর করা হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধার ও পরিবারের দাবি
নিশার ভাই নাসিম জানান, গত ৫ জুন এক স্থানীয় বাসিন্দার মাধ্যমে তাঁরা নিশার মৃত্যুর খবর পান। নাসিম বলেন, "আমার এক বন্ধু শুনতে পায় যে অঙ্কিত অন্য লোকেদের বলছে তাঁর স্ত্রী মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে ছুটে যাই এবং নিশার মৃতদেহ ঘরের ভেতর পড়ে থাকতে দেখি।"
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান নিশার নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে, অথচ ঘরের কুলার এবং ফ্যান তখনও চলছিল। স্বজনদের দাবি, নিশার শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এক আত্মীয় অভিযোগ করে বলেন, "নিশা গর্ভবতী ছিলেন এবং তাঁর শরীরে মারাত্মক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত।"
সাক্ষীর বক্তব্য ও অঙ্কিতের বয়ান
রোহন নামে এক স্থানীয় প্রতিবেশী জানান, তিনি অঙ্কিত ও তার পরিচিতদের নিশার মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে শুনেছিলেন। রোহন বলেন, "আমি শুনলাম ওরা আলোচনা করছে যে অঙ্কিতের স্ত্রী মারা গেছে। এটা শোনামাত্রই আমি নিশার পরিবারকে খবর দিই।" পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঙ্কিত প্রথমে ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে নিশার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একটি বিস্তারিত ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
পুলিশি অ্যাকশন ও বিক্ষোভ
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে মূল অভিযুক্ত অঙ্কিতকে গ্রেফতার করেছে। তবে নিশার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্তরা এখনও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছে। নিশার পরিবার আরও দাবি করেছে যে, পুলিশ তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা করছে এবং তারা এখনও এফআইআর ও ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্টের কপি হাতে পায়নি। নিশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিশার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুবিচার এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে কালিন্দি কুঞ্জ থানার সামনে নিশার পরিবার ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একজন স্থানীয় আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, তদন্তের খোঁজখবর নিতে গেলে পুলিশ উল্টো বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নিশার পরিবার এখন একটি সময়াবদ্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি গণধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে।
ভারতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধর্মে বিয়ের পর পারিবারিক কলহ ও সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। নিশার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দুই বছর আগের এই প্রেমের বিয়ের পর থেকেই নিশা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, যা অবহেলা করায় শেষ পর্যন্ত এই নির্মম পরিণতি ডেকে এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লির মদনপুর খাদর এলাকায় নিশা (১৯) নামে এক মুসলিম তরুণীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিশার পরিবারের অভিযোগ, তার হিন্দু স্বামী অঙ্কিত এবং আরও কয়েকজন মিলে নিশাকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ অঙ্কিতকে গ্রেফতার করলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক থাকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দিল্লির মদনপুর খাদর এলাকায় ১৯ বছর বয়সী তরুণী নিশার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অঙ্কিত ও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর আগে নিজের পরিবার ছেড়ে অঙ্কিতকে বিয়ে করেছিলেন নিশা। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই নিশার ওপর লাগাতার নির্যাতন চালানো হতো এবং মৃত্যুর আগেও তাঁকে চরমভাবে মারধর করা হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধার ও পরিবারের দাবি
নিশার ভাই নাসিম জানান, গত ৫ জুন এক স্থানীয় বাসিন্দার মাধ্যমে তাঁরা নিশার মৃত্যুর খবর পান। নাসিম বলেন, "আমার এক বন্ধু শুনতে পায় যে অঙ্কিত অন্য লোকেদের বলছে তাঁর স্ত্রী মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ওই বাড়িতে ছুটে যাই এবং নিশার মৃতদেহ ঘরের ভেতর পড়ে থাকতে দেখি।"
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান নিশার নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে, অথচ ঘরের কুলার এবং ফ্যান তখনও চলছিল। স্বজনদের দাবি, নিশার শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। এক আত্মীয় অভিযোগ করে বলেন, "নিশা গর্ভবতী ছিলেন এবং তাঁর শরীরে মারাত্মক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত।"
সাক্ষীর বক্তব্য ও অঙ্কিতের বয়ান
রোহন নামে এক স্থানীয় প্রতিবেশী জানান, তিনি অঙ্কিত ও তার পরিচিতদের নিশার মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে শুনেছিলেন। রোহন বলেন, "আমি শুনলাম ওরা আলোচনা করছে যে অঙ্কিতের স্ত্রী মারা গেছে। এটা শোনামাত্রই আমি নিশার পরিবারকে খবর দিই।" পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঙ্কিত প্রথমে ঘটনাটিকে 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে নিশার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একটি বিস্তারিত ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
পুলিশি অ্যাকশন ও বিক্ষোভ
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে মূল অভিযুক্ত অঙ্কিতকে গ্রেফতার করেছে। তবে নিশার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্তরা এখনও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক রয়েছে। নিশার পরিবার আরও দাবি করেছে যে, পুলিশ তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা করছে এবং তারা এখনও এফআইআর ও ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্টের কপি হাতে পায়নি। নিশার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিশার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুবিচার এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে কালিন্দি কুঞ্জ থানার সামনে নিশার পরিবার ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একজন স্থানীয় আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, তদন্তের খোঁজখবর নিতে গেলে পুলিশ উল্টো বিক্ষোভকারীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নিশার পরিবার এখন একটি সময়াবদ্ধ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি গণধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে।
ভারতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ধর্মে বিয়ের পর পারিবারিক কলহ ও সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। নিশার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দুই বছর আগের এই প্রেমের বিয়ের পর থেকেই নিশা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, যা অবহেলা করায় শেষ পর্যন্ত এই নির্মম পরিণতি ডেকে এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন