আড়াই বছর আগে গাজা শহরের সাবরা এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত দুই পরিবারের ১১২ জন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এই শহীদদের গতকাল জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে শ্রদ্ধাভরে দাফন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩৮ জন নারী এবং ৭ জন প্রতিবন্ধী নাগরিক রয়েছেন। এখনো হদিস মেলেনি আরও ১৫৭ জনের।
গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সচেটিত গণহত্যার একের পর এক বীভৎস চিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থল সাবরা এলাকায় একই পরিবারের বাসভবনে পরপর পাঁচটি ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় আবু শারিয়া এবং আল-হাসায়িনা পরিবারের প্রায় ৩০০ জন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন।
ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, জ্বালানি সংকট ও টানা অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার কাজ স্থবির ছিল। অবশেষে গাজার সিভিল ডিফেন্সের টানা দুই সপ্তাহের ১৩৬ ঘণ্টার কঠিন প্রচেষ্টায় গত ১ আগস্ট ১১২ জন ফিলিস্তিনির অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গতকাল গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই এক খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রেখে তাদের জানাজার নামাজ আদায় করা হয় এবং অশ্রুসিক্ত চোখে দাফন সম্পন্ন হয়।
পরিকল্পিত মৃত্যুফাঁদ
উদ্ধার অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং এই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আবু শারিয়া জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করেছিল। তিনি বলেন:
"ইসরায়েলি বাহিনী প্রথম ভবনে হামলা চালালে পরিবারের সবাই ভয়ে পাশের দ্বিতীয় ভবনে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পরেই তারা দ্বিতীয় ভবনেও বোমা ফেলে। বাধ্য হয়ে জীবিত ও আহত সবাই তৃতীয় ভবনটিতে জড়ো হন। ঠিক তখনই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চারপাশে আগুনের বলয় তৈরি করে পুরো ভবনটির ওপর ভারী কার্পেট বোম্বিং করা হয়। চোখের পলকে তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ মাটির নিচে বিলীন হয়ে যায়।"
১৫৭ জন এখনো নিখোঁজ, অনেকের মেলেনি কোনো চিহ্ন
উদ্ধারকারী দলের প্রধান মুহাম্মদ আবু দান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ১১২ জনের দেহাংশ বের করা গেলেও এখনো অন্তত ১৫৭ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি। অতিরিক্ত ভারী বোমার আঘাতে এবং দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় অনেক দেহ পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তাদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান স্বজনরা।
অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও ২০২৬ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই
এদিকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ঘোষিত অস্ত্রবিরতি এবং সম্প্রতি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাজনৈতিক নমনীয়তার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়ার নীতি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসটি চলতি বছরের মধ্যে গাজাবাসীর জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। জুলাই মাসেই ইসরায়েলি হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিরপরাধ বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২৫ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় তাঁবু শিবিরগুলোতে অনবরত আঘাত হানা হচ্ছে।
বিষয় : গাজা

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
আড়াই বছর আগে গাজা শহরের সাবরা এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত দুই পরিবারের ১১২ জন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া এই শহীদদের গতকাল জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে শ্রদ্ধাভরে দাফন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩৮ জন নারী এবং ৭ জন প্রতিবন্ধী নাগরিক রয়েছেন। এখনো হদিস মেলেনি আরও ১৫৭ জনের।
গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সচেটিত গণহত্যার একের পর এক বীভৎস চিত্র উন্মোচিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা শহরের কেন্দ্রস্থল সাবরা এলাকায় একই পরিবারের বাসভবনে পরপর পাঁচটি ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় আবু শারিয়া এবং আল-হাসায়িনা পরিবারের প্রায় ৩০০ জন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়েন।
ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, জ্বালানি সংকট ও টানা অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার কাজ স্থবির ছিল। অবশেষে গাজার সিভিল ডিফেন্সের টানা দুই সপ্তাহের ১৩৬ ঘণ্টার কঠিন প্রচেষ্টায় গত ১ আগস্ট ১১২ জন ফিলিস্তিনির অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গতকাল গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই এক খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রেখে তাদের জানাজার নামাজ আদায় করা হয় এবং অশ্রুসিক্ত চোখে দাফন সম্পন্ন হয়।
পরিকল্পিত মৃত্যুফাঁদ
উদ্ধার অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং এই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আবু শারিয়া জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করেছিল। তিনি বলেন:
"ইসরায়েলি বাহিনী প্রথম ভবনে হামলা চালালে পরিবারের সবাই ভয়ে পাশের দ্বিতীয় ভবনে আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণ পরেই তারা দ্বিতীয় ভবনেও বোমা ফেলে। বাধ্য হয়ে জীবিত ও আহত সবাই তৃতীয় ভবনটিতে জড়ো হন। ঠিক তখনই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চারপাশে আগুনের বলয় তৈরি করে পুরো ভবনটির ওপর ভারী কার্পেট বোম্বিং করা হয়। চোখের পলকে তিনটি পরিবার সম্পূর্ণ মাটির নিচে বিলীন হয়ে যায়।"
১৫৭ জন এখনো নিখোঁজ, অনেকের মেলেনি কোনো চিহ্ন
উদ্ধারকারী দলের প্রধান মুহাম্মদ আবু দান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ১১২ জনের দেহাংশ বের করা গেলেও এখনো অন্তত ১৫৭ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি। অতিরিক্ত ভারী বোমার আঘাতে এবং দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় অনেক দেহ পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন হয়ে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তাদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান স্বজনরা।
অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও ২০২৬ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই
এদিকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ঘোষিত অস্ত্রবিরতি এবং সম্প্রতি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাজনৈতিক নমনীয়তার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ক্ষুধা চাপিয়ে দেওয়ার নীতি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসটি চলতি বছরের মধ্যে গাজাবাসীর জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। জুলাই মাসেই ইসরায়েলি হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিরপরাধ বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ২৫ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের ওপর দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় তাঁবু শিবিরগুলোতে অনবরত আঘাত হানা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন