বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নজরদারির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্পেনের রাজনীতি। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে নজরদারির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে স্পেনের পার্লামেন্টে তলব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্পেন সরকার। এই ঘটনায় ইউরোপজুড়ে গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও থ্রেডসের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ভয়াবহ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেটা গোপনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ওয়েব ব্রাউজিং ইতিহাস নজরদারি করেছে একটি লুকানো অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের ক্ষমতাসীন দল সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি (PSOE) মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, অপারেশনাল চিফ জাভিয়ার অলিভান, এবং স্পেন ও পর্তুগালের জনসংযোগ প্রধান হোসে লুইস জিমারম্যান-কে স্পেনের পার্লামেন্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাতে সংসদের স্পিকারের কাছে আবেদন করেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও PSOE নেতা পেদ্রো সানচেজ গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫–এ ঘোষণা দেন, মেটার বিরুদ্ধে "ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের" অভিযোগে পার্লামেন্টে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“স্পেনে কোনো অ্যালগরিদম বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘন করবে, তাদের মূল্য দিতেই হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে মেটার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের পার্লামেন্টে তলব করা হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত মেটা একটি গোপন সফটওয়্যার ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য ট্র্যাক করেছে। ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ওয়েব সার্চ, ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মেটার বিরুদ্ধে এর আগেও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালিয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি এবং নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয় : স্পেন

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নজরদারির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্পেনের রাজনীতি। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে নজরদারির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে স্পেনের পার্লামেন্টে তলব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে স্পেন সরকার। এই ঘটনায় ইউরোপজুড়ে গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও থ্রেডসের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে ভয়াবহ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেটা গোপনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ওয়েব ব্রাউজিং ইতিহাস নজরদারি করেছে একটি লুকানো অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের ক্ষমতাসীন দল সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি (PSOE) মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, অপারেশনাল চিফ জাভিয়ার অলিভান, এবং স্পেন ও পর্তুগালের জনসংযোগ প্রধান হোসে লুইস জিমারম্যান-কে স্পেনের পার্লামেন্টে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাতে সংসদের স্পিকারের কাছে আবেদন করেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ও PSOE নেতা পেদ্রো সানচেজ গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫–এ ঘোষণা দেন, মেটার বিরুদ্ধে "ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের" অভিযোগে পার্লামেন্টে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“স্পেনে কোনো অ্যালগরিদম বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যারা নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘন করবে, তাদের মূল্য দিতেই হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে মেটার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের পার্লামেন্টে তলব করা হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত মেটা একটি গোপন সফটওয়্যার ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্য ট্র্যাক করেছে। ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ওয়েব সার্চ, ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মেটার বিরুদ্ধে এর আগেও ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চালিয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি এবং নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন