মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

উদ্ধারকারী দলের হাতে আসার আগেই নিভে গেল ছোট্ট প্রাণ, অরক্ষিত গভীর নলকূপ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদের করুণ মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার হলো সমাপ্তি


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদের করুণ মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার হলো সমাপ্তি

রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশু সাজিদকে উদ্ধারের পর মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযানের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটল বৃহস্পতিবার রাতে। বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমি পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি অরক্ষিত ও খোলা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়েছিল পাঁচ বছর বয়সী সাজিদ। সন্তানের জন্য মায়ের আকুল আর্তি এবং হাজারো মানুষের উদ্বেগ শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে এক করুণ দুর্ঘটনার শিকার হয় শিশু সাজিদ। বুধবার দুপুরে সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সাজিদের মা বুঝতে পারেননি যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি গভীর, অরক্ষিত নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে গেলে তার চিৎকারে মা ফিরে এসে খড় সরাতেই দেখতে পান সেই 'মৃত্যুকূপ', যা তার সন্তানকে গ্রাস করেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাজিদকে উদ্ধারে এক বিশাল অভিযান শুরু হয়, যেখানে যোগ দেন মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে শিশুটির ক্ষীণ সাড়াশব্দ পাওয়া গেলেও সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আওয়াজও বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা জাগায়। তবে জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। শিশুটির নিঃশ্বাস ধরে রাখার জন্য গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছিল। সাজিদকে ফিরে পাওয়ার আশায় নির্ঘুম রাত কাটান তার মা, গর্তের পাশেই চলে বিরামহীন কান্না ও দোয়া।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় শিশু সাজিদকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দ্রুত তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয় (রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে), তার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নলকূপটির অরক্ষিত অবস্থা। তারা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। গত বছরের বৃষ্টিতে গর্তের মুখ আরও বড় হয়। কোনো ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অরক্ষিত গভীর নলকূপের মুখে কোনো সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকা বা ঢাকনা না দেওয়ার মতো চরম অবহেলাই কেড়ে নিল একটি নিষ্পাপ প্রাণ।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে শিশু সাজিদের করুণ মৃত্যু: ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার হলো সমাপ্তি

প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ শিশু সাজিদকে উদ্ধারের পর মৃত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা। প্রায় ৩৬ ঘণ্টার এক রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযানের মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটল বৃহস্পতিবার রাতে। বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের জমি পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি অরক্ষিত ও খোলা গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়েছিল পাঁচ বছর বয়সী সাজিদ। সন্তানের জন্য মায়ের আকুল আর্তি এবং হাজারো মানুষের উদ্বেগ শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে এক করুণ দুর্ঘটনার শিকার হয় শিশু সাজিদ। বুধবার দুপুরে সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি জমি পার হচ্ছিল। জমিটি খড় দিয়ে ঢাকা থাকায় সাজিদের মা বুঝতে পারেননি যে খড়ের নিচেই রয়েছে একটি গভীর, অরক্ষিত নলকূপের গর্ত। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে গেলে তার চিৎকারে মা ফিরে এসে খড় সরাতেই দেখতে পান সেই 'মৃত্যুকূপ', যা তার সন্তানকে গ্রাস করেছে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাজিদকে উদ্ধারে এক বিশাল অভিযান শুরু হয়, যেখানে যোগ দেন মেডিকেল টিম ও স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনার পর প্রথম দিকে শিশুটির ক্ষীণ সাড়াশব্দ পাওয়া গেলেও সময় গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আওয়াজও বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা জাগায়। তবে জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। শিশুটির নিঃশ্বাস ধরে রাখার জন্য গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছিল। সাজিদকে ফিরে পাওয়ার আশায় নির্ঘুম রাত কাটান তার মা, গর্তের পাশেই চলে বিরামহীন কান্না ও দোয়া।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় শিশু সাজিদকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দ্রুত তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয় (রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে), তার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নলকূপটির অরক্ষিত অবস্থা। তারা জানান, গত বছর স্থানীয় এক ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১২০ ফুট নিচেও পানি না পাওয়ায় পাইপটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মুখ খোলা রেখেই ফেলে রাখা হয়। গত বছরের বৃষ্টিতে গর্তের মুখ আরও বড় হয়। কোনো ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা ঢাকনা না থাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অরক্ষিত গভীর নলকূপের মুখে কোনো সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকা বা ঢাকনা না দেওয়ার মতো চরম অবহেলাই কেড়ে নিল একটি নিষ্পাপ প্রাণ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত