মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

নিয়ম মেনেও কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি আলিশা; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়

হিজাব পরায় পরীক্ষাকেন্দ্রে বাধা: রাজস্থানে লোকসেবা পরীক্ষায় মুসলিম নারী প্রার্থী বঞ্চিত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

হিজাব পরায় পরীক্ষাকেন্দ্রে বাধা: রাজস্থানে লোকসেবা পরীক্ষায় মুসলিম নারী প্রার্থী বঞ্চিত

ভারতের রাজস্থানে রাজ্য লোকসেবা কমিশনের একটি পরীক্ষায় হিজাব পরার কারণে এক মুসলিম নারী প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে কোনো আপত্তিকর বস্তু না পাওয়া সত্ত্বেও তাকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রার্থী প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন।

রাজস্থান লোকসেবা কমিশনের (Rajasthan Public Service Commission) অধীনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে হিজাব পরার কারণে বাধার মুখে পড়েছেন মুসলিম নারী প্রার্থী আলিশা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, কোটা শহরের মহাবীর নগর এক্সটেনশনে অবস্থিত তিলক স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে।

আলিশা রাজস্থানের বুন্দি জেলার সাওয়াতগড়, হিন্দোলি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে লেডি সিকিউরিটি অফিসার তার সম্পূর্ণ শারীরিক তল্লাশি করেন। তল্লাশিতে হিজাব বা চুন্নির ভেতরে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর বস্তু পাওয়া যায়নি। তবুও কেন্দ্রের ইনচার্জ মৌখিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করে হিজাব না খুললে তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।

আলিশার দাবি, রাজস্থান লোকসেবা কমিশনের লিখিত গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে দোপাট্টা বা চুন্নি পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি রয়েছে। সেই লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেবল মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

তিনি আরও জানান, এর আগেও তিনি রাজস্থান লোকসেবা কমিশন এবং রাজস্থান কর্মী নির্বাচন বোর্ড আয়োজিত একাধিক পরীক্ষায় হিজাব পরে অংশ নিয়েছেন, যেখানে কখনোই কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। তার ভাষায়, এই ঘটনা শুধু নিয়ম লঙ্ঘনের নয়, বরং নারী মর্যাদা ও পরীক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনেরও স্পষ্ট উদাহরণ।

পরীক্ষার দুই দিন পর আলিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আলিশার পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে ধর্মীয় বৈষম্য ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মত দিয়েছেন, পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ওই মুহূর্তে হিজাব খুলে পরীক্ষায় বসা উচিত ছিল, এবং পরবর্তীতে অভিযোগ জানানো যেত।

ঘটনাটি রাজ্যে পরীক্ষার সময় ধর্মীয় পোশাক, নারী অধিকার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


হিজাব পরায় পরীক্ষাকেন্দ্রে বাধা: রাজস্থানে লোকসেবা পরীক্ষায় মুসলিম নারী প্রার্থী বঞ্চিত

প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজস্থানে রাজ্য লোকসেবা কমিশনের একটি পরীক্ষায় হিজাব পরার কারণে এক মুসলিম নারী প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে কোনো আপত্তিকর বস্তু না পাওয়া সত্ত্বেও তাকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রার্থী প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন।

রাজস্থান লোকসেবা কমিশনের (Rajasthan Public Service Commission) অধীনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে হিজাব পরার কারণে বাধার মুখে পড়েছেন মুসলিম নারী প্রার্থী আলিশা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, কোটা শহরের মহাবীর নগর এক্সটেনশনে অবস্থিত তিলক স্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রে।

আলিশা রাজস্থানের বুন্দি জেলার সাওয়াতগড়, হিন্দোলি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের আগে লেডি সিকিউরিটি অফিসার তার সম্পূর্ণ শারীরিক তল্লাশি করেন। তল্লাশিতে হিজাব বা চুন্নির ভেতরে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর বস্তু পাওয়া যায়নি। তবুও কেন্দ্রের ইনচার্জ মৌখিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করে হিজাব না খুললে তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।

আলিশার দাবি, রাজস্থান লোকসেবা কমিশনের লিখিত গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে দোপাট্টা বা চুন্নি পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি রয়েছে। সেই লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেবল মৌখিক আদেশের ভিত্তিতে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

তিনি আরও জানান, এর আগেও তিনি রাজস্থান লোকসেবা কমিশন এবং রাজস্থান কর্মী নির্বাচন বোর্ড আয়োজিত একাধিক পরীক্ষায় হিজাব পরে অংশ নিয়েছেন, যেখানে কখনোই কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। তার ভাষায়, এই ঘটনা শুধু নিয়ম লঙ্ঘনের নয়, বরং নারী মর্যাদা ও পরীক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনেরও স্পষ্ট উদাহরণ।

পরীক্ষার দুই দিন পর আলিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আলিশার পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে ধর্মীয় বৈষম্য ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মত দিয়েছেন, পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ওই মুহূর্তে হিজাব খুলে পরীক্ষায় বসা উচিত ছিল, এবং পরবর্তীতে অভিযোগ জানানো যেত।

ঘটনাটি রাজ্যে পরীক্ষার সময় ধর্মীয় পোশাক, নারী অধিকার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত