দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির গতি বাড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে কল্পনাাতীতভাবে ভিন্ন, যেখানে প্রযুক্তি কোনো বিলাসিতা নয় বরং বেঁচে থাকার প্রধান হাতিয়ার। আজ বুধবার রাজধানীতে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আয়োজিত এই মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ইউনূস আইসিটি খাতকে দেশের ‘মূল খাত’ (Core Sector) হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত অনেক খাত টিকে থাকলেও সেগুলোর প্রাণশক্তি যোগাবে আধুনিক প্রযুক্তি।
প্রধান উপদেষ্টা আত্মসমালোচনামূলক কণ্ঠে বলেন, "দেখে মনে হতে পারে আমরা এগোচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে আমরা চিন্তায় ও প্রস্তুতিতে অনেক পিছিয়ে আছি।" তিনি মনে করেন, আইসিটি খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিশ্ব যে গতিতে এগোচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে না পারলে বাংলাদেশ বড় ধরণের সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রযুক্তির সঙ্গে আজকের শিশুদের সহজাত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস এক গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারার সাথে পুরোনো প্রজন্মের দূরত্ব বাড়ছে, যার ফলে একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি হচ্ছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হিমশিম খাচ্ছে কারণ তাদের চিন্তার কাঠামো ভিন্ন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তার মতে, প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় নাগরিককে সরকারের কাছে যেতে হবে না, বরং সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে দেশ থেকে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় : প্রধান উপদেষ্টা

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির গতি বাড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে কল্পনাাতীতভাবে ভিন্ন, যেখানে প্রযুক্তি কোনো বিলাসিতা নয় বরং বেঁচে থাকার প্রধান হাতিয়ার। আজ বুধবার রাজধানীতে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আয়োজিত এই মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ইউনূস আইসিটি খাতকে দেশের ‘মূল খাত’ (Core Sector) হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত অনেক খাত টিকে থাকলেও সেগুলোর প্রাণশক্তি যোগাবে আধুনিক প্রযুক্তি।
প্রধান উপদেষ্টা আত্মসমালোচনামূলক কণ্ঠে বলেন, "দেখে মনে হতে পারে আমরা এগোচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে আমরা চিন্তায় ও প্রস্তুতিতে অনেক পিছিয়ে আছি।" তিনি মনে করেন, আইসিটি খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিশ্ব যে গতিতে এগোচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে না পারলে বাংলাদেশ বড় ধরণের সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রযুক্তির সঙ্গে আজকের শিশুদের সহজাত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস এক গভীর সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারার সাথে পুরোনো প্রজন্মের দূরত্ব বাড়ছে, যার ফলে একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি হচ্ছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হিমশিম খাচ্ছে কারণ তাদের চিন্তার কাঠামো ভিন্ন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তার মতে, প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় নাগরিককে সরকারের কাছে যেতে হবে না, বরং সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে দেশ থেকে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন