মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ব্যর্থ ও নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে হাতপাখায় ভোট চাইলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির

সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িতের জন্য ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা: চরমোনাই পীর


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িতের জন্য ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য ইসলাম একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যবস্থাপনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বরং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার বিভিন্ন আসনে আয়োজিত পথসভা ও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত নিপীড়িত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্রকেই নিপীড়নের একটি উপকরণে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের কষ্টার্জিত আয় থেকে সংগৃহীত করের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত নাগরিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেনি; বরং এটি গুটিকয়েক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মুনাফার উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেছেন। তাঁর মতে, সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পুরোনো ও ব্যর্থ রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্তের অবসান ঘটানো।

তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই চেতনার বাস্তবায়নে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটি বিকল্প মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাঁর ভাষায়, “৫৪ বছরের ব্যর্থতাকে মুছে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণকে নতুন পথ বেছে নিতে হবে।”

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে আর হতাশ হতে হবে না—এমন আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে যারা ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করতে ভয় পান, তাদের জন্য ইসলামী রাজনীতি উপযুক্ত নয়। তাঁর মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা স্পষ্টভাবে ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

উক্ত পথসভা ও জনসভাগুলোতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বিষয় : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িতের জন্য ইসলামই একমাত্র পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা: চরমোনাই পীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ সকল নিপীড়িত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য ইসলাম একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইন ও ব্যবস্থাপনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বরং তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার বিভিন্ন আসনে আয়োজিত পথসভা ও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত নিপীড়িত ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্রকেই নিপীড়নের একটি উপকরণে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের কষ্টার্জিত আয় থেকে সংগৃহীত করের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত নাগরিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারেনি; বরং এটি গুটিকয়েক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মুনাফার উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করেছেন। তাঁর মতে, সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল পুরোনো ও ব্যর্থ রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্তের অবসান ঘটানো।

তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই চেতনার বাস্তবায়নে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে একটি বিকল্প মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাঁর ভাষায়, “৫৪ বছরের ব্যর্থতাকে মুছে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে জনগণকে নতুন পথ বেছে নিতে হবে।”

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’-তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে আর হতাশ হতে হবে না—এমন আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে যারা ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করতে ভয় পান, তাদের জন্য ইসলামী রাজনীতি উপযুক্ত নয়। তাঁর মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা স্পষ্টভাবে ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করছে। তিনি ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

উক্ত পথসভা ও জনসভাগুলোতে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত