অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা নয়, বরং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। আজ রাজধানীর বাসাবোতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এই মন্তব্য করেন। তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
উপদেষ্টা বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতা পেলে তা ধরে রাখার একটি দুঃখজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি, সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত—একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে আমরা ঘরে ফিরব।"
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলে বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। এটি দেশকে উন্নয়নের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটারদের কারিগরি দিকগুলো বুঝিয়ে বলেন। তিনি জানান, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—সাদা ব্যালটে প্রার্থী নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে দেশের শাসন পরিচালনার গাইডলাইন নির্ধারণের সুযোগ থাকবে। তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার গত ৫৪ বছরেও অর্জিত হয়নি। অতীতের শাসনামলগুলোতে সংবিধানকে নানাভাবে অপব্যবহার করে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন প্রয়োজন।
বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিষয় : ধর্ম উপদেষ্টা

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা নয়, বরং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। আজ রাজধানীর বাসাবোতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এই মন্তব্য করেন। তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
উপদেষ্টা বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতা পেলে তা ধরে রাখার একটি দুঃখজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি, সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত—একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে আমরা ঘরে ফিরব।"
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলে বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। এটি দেশকে উন্নয়নের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভোটারদের কারিগরি দিকগুলো বুঝিয়ে বলেন। তিনি জানান, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—সাদা ব্যালটে প্রার্থী নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে দেশের শাসন পরিচালনার গাইডলাইন নির্ধারণের সুযোগ থাকবে। তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার গত ৫৪ বছরেও অর্জিত হয়নি। অতীতের শাসনামলগুলোতে সংবিধানকে নানাভাবে অপব্যবহার করে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন প্রয়োজন।
বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন