মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মানবিক ও বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে গাজা-মিশর সংযোগস্থল

সোমবার থেকে খুলে যাচ্ছে রাফাহ সীমান্ত: দুই দেশেই যাতায়াত করতে পারবেন গাজাবাসী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার থেকে খুলে যাচ্ছে রাফাহ সীমান্ত: দুই দেশেই যাতায়াত করতে পারবেন গাজাবাসী

গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে রাফাহ সীমান্ত। ফিলিস্তিনের গাজা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলী শাথ শুক্রবার রাতে এই ঘোষণা দেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনিরা মিশর এবং মিশরের দিক থেকে গাজায় যাতায়াত করতে পারবেন।

গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা জাতীয় কমিটির প্রধান আলী শাথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে উভয়মুখী চলাচল শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) পরীক্ষামূলকভাবে সীমান্তের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এর আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তানুযায়ী তারা রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যাতায়াত কিছুটা 'সীমিত' থাকবে এবং গাজাবাসীদের যাতায়াতের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও মিশরের সাথে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) একটি বিশেষ মিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও কার্যকর ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই সীমান্ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার ইসরায়েলি বন্দি রান গুইলির দেহাবশেষ হস্তান্তরের পর এই প্রক্রিয়াটি গতি পায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ইসরায়েল এই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, যার ফলে গাজার মানবিক সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গাজায় এই সীমান্ত খুলে দেওয়াকে পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। সোমবার থেকে সীমান্ত খুলে দেওয়া হলে চিকিৎসা সেবা ও জরুরি প্রয়োজনে আটকে পড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিষয় : ফিলিস্তিন রাফাহ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সোমবার থেকে খুলে যাচ্ছে রাফাহ সীমান্ত: দুই দেশেই যাতায়াত করতে পারবেন গাজাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হচ্ছে রাফাহ সীমান্ত। ফিলিস্তিনের গাজা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান আলী শাথ শুক্রবার রাতে এই ঘোষণা দেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনিরা মিশর এবং মিশরের দিক থেকে গাজায় যাতায়াত করতে পারবেন।

গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা জাতীয় কমিটির প্রধান আলী শাথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে উভয়মুখী চলাচল শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) পরীক্ষামূলকভাবে সীমান্তের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এর আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তানুযায়ী তারা রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে যাতায়াত কিছুটা 'সীমিত' থাকবে এবং গাজাবাসীদের যাতায়াতের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও মিশরের সাথে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) একটি বিশেষ মিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও কার্যকর ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে এই সীমান্ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার ইসরায়েলি বন্দি রান গুইলির দেহাবশেষ হস্তান্তরের পর এই প্রক্রিয়াটি গতি পায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ইসরায়েল এই সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, যার ফলে গাজার মানবিক সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গাজায় এই সীমান্ত খুলে দেওয়াকে পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই যুদ্ধে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। সোমবার থেকে সীমান্ত খুলে দেওয়া হলে চিকিৎসা সেবা ও জরুরি প্রয়োজনে আটকে পড়া হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত