মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

চরমপন্থীদের হুমকির মুখেও অনড় দুই হিন্দু যুবক; বৃদ্ধ মুসলিম দোকানদারকে বাঁচাতে বুক চিতিয়ে লড়াই

সাম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে সম্প্রীতির অনন্য নজির: মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ালেন হিন্দু যুবক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে সম্প্রীতির অনন্য নজির: মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ালেন হিন্দু যুবক

ভারতের উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন দীপক কুমার ও বিজয় রাওয়াত নামে দুই যুবক। বজরং দলের একদল উগ্রপন্থী যখন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মুসলিম দোকানদারকে হেনস্তা করছিল, তখন এই দুই যুবক ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে সেই হামলা রুখে দেন। এই ঘটনার পর চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে তারা বলছেন, "সবার আগে আমরা মানুষ।"

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জানুয়ারি। উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে 'বাবা স্কুল ড্রেস' নামে ৩০ বছরের পুরনো একটি দোকান চালাচ্ছিলেন ৭০ বছর বয়সী শোয়েব সালমানি (প্রাথমিক প্রতিবেদনে নাম ‘ভকিল আহমেদ’ উল্লেখ থাকলেও পরে সালমানি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে)। হঠাৎ একদল বজরং দল কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে দাবি করে, দোকানের নাম থেকে 'বাবা' শব্দটি বাদ দিতে হবে। তাদের যুক্তি, 'বাবা' শব্দটি কেবল হিন্দু ধর্মগুরুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

"আমার নাম মোহাম্মদ দীপক" বৃদ্ধ দোকানদারকে যখন উগ্রপন্থীরা ভয় দেখাচ্ছিল, তখন জিম মালিক দীপক কুমার ও তার বন্ধু বিজয় রাওয়াত সেখানে উপস্থিত হন। উগ্রপন্থীরা যখন দীপকের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়, তখন তিনি সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, "আমার নাম মোহাম্মদ দীপক!" পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারতের বৈচিত্র্য এবং হিন্দু-মুসলিম ভাতৃত্বের বার্তা দিতেই তিনি নিজের নামের সাথে 'মোহাম্মদ' জুড়ে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উগ্রপন্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বজরং দল কর্মী দীপক কুমারের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

হুমকির মুখেও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন দীপক। ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি বলেন, "আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান নই; আমি সবার আগে একজন মানুষ। মৃত্যুর পর আমাকে ঈশ্বরের কাছে মানবতার জবাব দিতে হবে, কোনো ধর্মের নয়।" অন্যদিকে বিজয় রাওয়াত বলেন, "আমাদের হিন্দু ধর্ম কাউকে ঘৃণা করতে শেখায় না। যারা ধর্মের নামে দাঙ্গা লাগাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

ভুক্তভোগী দোকানদার শোয়েব সালমানির অভিযোগের ভিত্তিতে কোটদ্বার থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তার অভিযোগে তদন্ত চলছে। বর্তমানে দীপক কুমারের "আমার নাম মোহাম্মদ দীপক" বাক্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : ভারত ইসলামভীতি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


সাম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে সম্প্রীতির অনন্য নজির: মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়ালেন হিন্দু যুবক

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন দীপক কুমার ও বিজয় রাওয়াত নামে দুই যুবক। বজরং দলের একদল উগ্রপন্থী যখন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মুসলিম দোকানদারকে হেনস্তা করছিল, তখন এই দুই যুবক ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে সেই হামলা রুখে দেন। এই ঘটনার পর চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে তারা বলছেন, "সবার আগে আমরা মানুষ।"

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জানুয়ারি। উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে 'বাবা স্কুল ড্রেস' নামে ৩০ বছরের পুরনো একটি দোকান চালাচ্ছিলেন ৭০ বছর বয়সী শোয়েব সালমানি (প্রাথমিক প্রতিবেদনে নাম ‘ভকিল আহমেদ’ উল্লেখ থাকলেও পরে সালমানি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে)। হঠাৎ একদল বজরং দল কর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে দাবি করে, দোকানের নাম থেকে 'বাবা' শব্দটি বাদ দিতে হবে। তাদের যুক্তি, 'বাবা' শব্দটি কেবল হিন্দু ধর্মগুরুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

"আমার নাম মোহাম্মদ দীপক" বৃদ্ধ দোকানদারকে যখন উগ্রপন্থীরা ভয় দেখাচ্ছিল, তখন জিম মালিক দীপক কুমার ও তার বন্ধু বিজয় রাওয়াত সেখানে উপস্থিত হন। উগ্রপন্থীরা যখন দীপকের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়, তখন তিনি সাহসের সঙ্গে ঘোষণা করেন, "আমার নাম মোহাম্মদ দীপক!" পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারতের বৈচিত্র্য এবং হিন্দু-মুসলিম ভাতৃত্বের বার্তা দিতেই তিনি নিজের নামের সাথে 'মোহাম্মদ' জুড়ে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উগ্রপন্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন বজরং দল কর্মী দীপক কুমারের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

হুমকির মুখেও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন দীপক। ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি বলেন, "আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ বা খ্রিস্টান নই; আমি সবার আগে একজন মানুষ। মৃত্যুর পর আমাকে ঈশ্বরের কাছে মানবতার জবাব দিতে হবে, কোনো ধর্মের নয়।" অন্যদিকে বিজয় রাওয়াত বলেন, "আমাদের হিন্দু ধর্ম কাউকে ঘৃণা করতে শেখায় না। যারা ধর্মের নামে দাঙ্গা লাগাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

ভুক্তভোগী দোকানদার শোয়েব সালমানির অভিযোগের ভিত্তিতে কোটদ্বার থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তার অভিযোগে তদন্ত চলছে। বর্তমানে দীপক কুমারের "আমার নাম মোহাম্মদ দীপক" বাক্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী স্লোগানে পরিণত হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত