মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীল রক্ষায় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সাথে সমন্বিত উদ্যোগের প্রস্তাব তুর্কি প্রেসিডেন্টের

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তুরস্ক সরাসরি কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ককে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সৌদি আরবভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক শারক আল-আওসাত–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, তুরস্ক ও সৌদি আরব ঐতিহাসিক বন্ধনসম্পন্ন, গভীর রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এবং আঞ্চলিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন দুটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র।

এরদোয়ানের ভাষায়, “আমরা তুরস্ক–সৌদি আরব সম্পর্ককে কখনোই কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের সংকীর্ণ পরিসরে দেখিনি। এই সম্পর্ক আমাদের অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।” তিনি জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি, পর্যটন, পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, এসব সম্ভাবনাকে কাগজে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে বাস্তব প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সহযোগিতা জোরদার করাই তুরস্কের লক্ষ্য।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন সফরের মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বিষয়ে পরামর্শ বিস্তৃত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়া।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে এরদোয়ান স্পষ্টভাবে বলেন, তুরস্ক কোনো নতুন যুদ্ধ চায় না। গাজা, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে যুদ্ধ মানেই আরও রক্তপাত ও মানবিক বিপর্যয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ আমরা প্রত্যাখ্যান করি। উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন সব পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।” এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত এবং এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এরদোয়ানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন নতুন সামরিক জোট নয়, বরং যৌথ বুদ্ধিবৃত্তিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা কাঠামো। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং সংঘাতের জন্মের আগেই তা প্রতিরোধ করা।”

গাজা বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করাই মূল অগ্রাধিকার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরায়েলের গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিয়া প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল সিরীয় জনগণই। তুরস্ক এমন একটি সিরিয়া দেখতে চায়, যা প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি নয়, সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল নয় এবং সব নাগরিককে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ প্রসঙ্গে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সাল থেকে তুরস্ক ১২ হাজার ৬০০ টন মানবিক সহায়তা ও ৩০ হাজার তাঁবু পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পোর্ট সুদানে টিকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।

ইসরায়েলের ‘সোমালিল্যান্ড’ স্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার পক্ষে অটল থাকবে।

বিষয় : তুরস্ক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত তুরস্ক: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তুরস্ক সরাসরি কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ককে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সৌদি আরবভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক শারক আল-আওসাত–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, তুরস্ক ও সৌদি আরব ঐতিহাসিক বন্ধনসম্পন্ন, গভীর রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এবং আঞ্চলিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন দুটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র।

এরদোয়ানের ভাষায়, “আমরা তুরস্ক–সৌদি আরব সম্পর্ককে কখনোই কেবল দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের সংকীর্ণ পরিসরে দেখিনি। এই সম্পর্ক আমাদের অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।” তিনি জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে দুই দেশের সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি, পর্যটন, পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, এসব সম্ভাবনাকে কাগজে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে বাস্তব প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সহযোগিতা জোরদার করাই তুরস্কের লক্ষ্য।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও বৈশ্বিক নানা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসন্ন সফরের মূল লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক বিষয়ে পরামর্শ বিস্তৃত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়া।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে এরদোয়ান স্পষ্টভাবে বলেন, তুরস্ক কোনো নতুন যুদ্ধ চায় না। গাজা, ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে যুদ্ধ মানেই আরও রক্তপাত ও মানবিক বিপর্যয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপ আমরা প্রত্যাখ্যান করি। উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন সব পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।” এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত এবং এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এরদোয়ানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন নতুন সামরিক জোট নয়, বরং যৌথ বুদ্ধিবৃত্তিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা কাঠামো। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং সংঘাতের জন্মের আগেই তা প্রতিরোধ করা।”

গাজা বিষয়ে এরদোয়ান বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করাই মূল অগ্রাধিকার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরায়েলের গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিয়া প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল সিরীয় জনগণই। তুরস্ক এমন একটি সিরিয়া দেখতে চায়, যা প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি নয়, সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল নয় এবং সব নাগরিককে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করে।

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ প্রসঙ্গে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সাল থেকে তুরস্ক ১২ হাজার ৬০০ টন মানবিক সহায়তা ও ৩০ হাজার তাঁবু পাঠিয়েছে। পাশাপাশি পোর্ট সুদানে টিকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।

ইসরায়েলের ‘সোমালিল্যান্ড’ স্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার পক্ষে অটল থাকবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত