মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

পুড়ল ঘর, হারাল নিরাপত্তা: ছত্তিশগড়ে বিচার কি তবে একপাক্ষিক?

ছত্তিশগড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: মুসলিমদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছত্তিশগড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: মুসলিমদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের গারিয়াবান্দ জেলার দুতকাইয়া গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় বেশ কিছু মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও স্থানীয়রা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত  ফেব্রুয়ারি দুতকাইয়া গ্রামে বহিরাগত তিন ব্যক্তির আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিরা রড ও পাথর নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়, যাতে অন্তত ছয়জন আহত হন। তবে এই ঘটনা দ্রুতই সাম্প্রদায়িক রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সহিংসতার শিকার স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি প্রশাসনের বর্ণনার চেয়েও ভয়াবহ। উন্মত্ত জনতা অন্তত তিনটি মুসলিম বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগী আরিফ, সেলিম ও ইমরানের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলে পরিবারগুলো প্রাণভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামে বড় ধরনের পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি থমথমে অবস্থায় রয়েছে।

গারিয়াবান্দের পুলিশ সুপার (এসপি) বেদব্রত সিরমোর জানিয়েছেন, এই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ, সেলিম ও ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশি ব্যবস্থা একপাক্ষিক হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, তাদেরই গ্রেপ্তার করায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে। তারা বলছেন, সাধারণ মুসলিমরা একদিকে যেমন জানমালের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে এখন পুলিশের হয়রানির মুখে পড়ছেন। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো জেলা। বর্তমানে গ্রামটিতে থমথমে শান্তি বিরাজ করছে, তবে আতঙ্কে এখনো ঘরে ফেরেননি অনেকে।

বিষয় : ভারত ইসলামভীতি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ছত্তিশগড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা: মুসলিমদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের গারিয়াবান্দ জেলার দুতকাইয়া গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় বেশ কিছু মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও স্থানীয়রা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত  ফেব্রুয়ারি দুতকাইয়া গ্রামে বহিরাগত তিন ব্যক্তির আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিরা রড ও পাথর নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়, যাতে অন্তত ছয়জন আহত হন। তবে এই ঘটনা দ্রুতই সাম্প্রদায়িক রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সহিংসতার শিকার স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি প্রশাসনের বর্ণনার চেয়েও ভয়াবহ। উন্মত্ত জনতা অন্তত তিনটি মুসলিম বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগী আরিফ, সেলিম ও ইমরানের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলে পরিবারগুলো প্রাণভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপরও পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামে বড় ধরনের পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটি থমথমে অবস্থায় রয়েছে।

গারিয়াবান্দের পুলিশ সুপার (এসপি) বেদব্রত সিরমোর জানিয়েছেন, এই সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ, সেলিম ও ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশি ব্যবস্থা একপাক্ষিক হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, তাদেরই গ্রেপ্তার করায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে। তারা বলছেন, সাধারণ মুসলিমরা একদিকে যেমন জানমালের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে এখন পুলিশের হয়রানির মুখে পড়ছেন। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো জেলা। বর্তমানে গ্রামটিতে থমথমে শান্তি বিরাজ করছে, তবে আতঙ্কে এখনো ঘরে ফেরেননি অনেকে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত