ভারতের রাজস্থান রাজ্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে পোস্টার টানানোর অভিযোগে দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পর্যটন ভিসায় অবস্থানরত অবস্থায় রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ায় ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিবাসন ও বিদেশি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়। ঘটনায় পর্যটন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, রাজস্থান পুলিশের সিআইডি দুই ব্রিটিশ নাগরিককে নোটিশ দিয়ে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পুষ্করসহ কয়েকটি জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের গাজা অভিযানের প্রতিবাদে পোস্টার সাঁটিয়েছিলেন। পোস্টারগুলোতে “Free Palestine, Boycott Israel”সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি ভারতে পর্যটন ভিসায় অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় ভিসা বিধি অনুযায়ী, পর্যটন ভিসাধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচার নিষিদ্ধ। এই বিধি লঙ্ঘনের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজেশ মীনা বলেন, “ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভিসা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।”
নোটিশগুলো অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর আওতায় জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই ব্রিটিশ নাগরিককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে টানানো সব পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজস্থান পুলিশ বিদেশি পর্যটকদের যেসব স্থানে বেশি যাতায়াত রয়েছে, সেসব এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুষ্কর, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র, সেখানে পোস্টার টানানোর বিষয়টি প্রশাসনের বিশেষ নজরে আসে।
এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের পক্ষে ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলেও, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা শর্ত মেনে চলতে হবে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া যাবে না।
বিষয় : ভারত

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের রাজস্থান রাজ্যে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে পোস্টার টানানোর অভিযোগে দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পর্যটন ভিসায় অবস্থানরত অবস্থায় রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ায় ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিবাসন ও বিদেশি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়। ঘটনায় পর্যটন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, রাজস্থান পুলিশের সিআইডি দুই ব্রিটিশ নাগরিককে নোটিশ দিয়ে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পুষ্করসহ কয়েকটি জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের গাজা অভিযানের প্রতিবাদে পোস্টার সাঁটিয়েছিলেন। পোস্টারগুলোতে “Free Palestine, Boycott Israel”সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি ভারতে পর্যটন ভিসায় অবস্থান করছিলেন। ভারতীয় ভিসা বিধি অনুযায়ী, পর্যটন ভিসাধারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা রাজনৈতিক বার্তা প্রচার নিষিদ্ধ। এই বিধি লঙ্ঘনের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজেশ মীনা বলেন, “ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া ভিসা শর্তের পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভিসা বিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।”
নোটিশগুলো অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর আওতায় জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই ব্রিটিশ নাগরিককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে টানানো সব পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজস্থান পুলিশ বিদেশি পর্যটকদের যেসব স্থানে বেশি যাতায়াত রয়েছে, সেসব এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুষ্কর, যা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র, সেখানে পোস্টার টানানোর বিষয়টি প্রশাসনের বিশেষ নজরে আসে।
এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের পক্ষে ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলেও, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা শর্ত মেনে চলতে হবে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন