বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

তিন পরাশক্তিকে পরাজিত করার গৌরব ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ডাক দিলেন তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতারা

সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের ৩৭ বছর: আফগানিস্তানের জাতীয় বীরত্বের এক অনন্য ইতিহাস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের ৩৭ বছর: আফগানিস্তানের জাতীয় বীরত্বের এক অনন্য ইতিহাস

আফগানিস্তানের মাটি থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘লাল ফৌজের’ শেষ সৈন্যটি প্রত্যাহারের ৩৭তম বার্ষিকী পূর্ণ হলো আজ। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে কাবুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইসলামিক আমিরাত)। অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সোভিয়েত আগ্রাসনের শিকার হওয়া দেড় মিলিয়ন শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন এবং জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

আজ থেকে ঠিক ৩৭ বছর আগে, হাইরাতান শহরের ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ পার হয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ সৈন্যটি। এর মাধ্যমে অবসান ঘটেছিল প্রায় এক দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। আফগান ক্যালেন্ডারের ২৬ দলওয়া (যা বর্তমান সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজকের দিন) দিনটিকে স্মরণ করে রাজধানী কাবুলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদানের গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “বিগত চার দশকে আফগানিস্তান অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। আমরা যদি আবার দখলদারিত্ব বা গৃহযুদ্ধের কবলে পড়তে না চাই, তবে আমাদের অতীতের সব ভেদাভেদ ও প্রতিহিংসা ভুলে যেতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বর্তমান আফগান সরকার প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের প্রশাসনিক উপ-প্রধান আব্দুল সালাম হানাফি ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোভিয়েতের পতনের পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুজাহিদিনরা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যা দেশটিকে চরম সংকটে ফেলেছিল। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার পরামর্শ দেন।

হজ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ সাকিব গত কয়েক দশকের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, "সোভিয়েত আগ্রাসনে ১৫ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং লাখ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।" তিনি সতর্ক করেন যে, কেবল বিজয়ে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না, যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন হাফিজুল্লাহ আমিন সরকারকে উৎখাত করে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। টানা ৯ বছরের যুদ্ধে আফগানদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে অবশেষে ১৯৮৯ সালে তারা বিদায় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমান তালেবান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এই দিনটিকে আফগানদের দৃঢ় সংকল্প ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের ৩৭ বছর: আফগানিস্তানের জাতীয় বীরত্বের এক অনন্য ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানের মাটি থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘লাল ফৌজের’ শেষ সৈন্যটি প্রত্যাহারের ৩৭তম বার্ষিকী পূর্ণ হলো আজ। ঐতিহাসিক এই দিনটি উপলক্ষে কাবুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইসলামিক আমিরাত)। অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সোভিয়েত আগ্রাসনের শিকার হওয়া দেড় মিলিয়ন শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন এবং জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।

আজ থেকে ঠিক ৩৭ বছর আগে, হাইরাতান শহরের ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ পার হয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ সৈন্যটি। এর মাধ্যমে অবসান ঘটেছিল প্রায় এক দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। আফগান ক্যালেন্ডারের ২৬ দলওয়া (যা বর্তমান সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজকের দিন) দিনটিকে স্মরণ করে রাজধানী কাবুলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবদানের গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “বিগত চার দশকে আফগানিস্তান অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে। আমরা যদি আবার দখলদারিত্ব বা গৃহযুদ্ধের কবলে পড়তে না চাই, তবে আমাদের অতীতের সব ভেদাভেদ ও প্রতিহিংসা ভুলে যেতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিশ্বের যেকোনো দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে বর্তমান আফগান সরকার প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের প্রশাসনিক উপ-প্রধান আব্দুল সালাম হানাফি ঐতিহাসিক ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোভিয়েতের পতনের পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুজাহিদিনরা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল, যা দেশটিকে চরম সংকটে ফেলেছিল। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার পরামর্শ দেন।

হজ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ সাকিব গত কয়েক দশকের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, "সোভিয়েত আগ্রাসনে ১৫ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং লাখ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।" তিনি সতর্ক করেন যে, কেবল বিজয়ে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না, যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন হাফিজুল্লাহ আমিন সরকারকে উৎখাত করে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। টানা ৯ বছরের যুদ্ধে আফগানদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে অবশেষে ১৯৮৯ সালে তারা বিদায় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমান তালেবান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এই দিনটিকে আফগানদের দৃঢ় সংকল্প ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার এক উজ্জ্বল প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত