প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫
আফগানিস্তানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রিত
আফগানিস্তানে আবারও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। তবে এবার দেশটিতে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনার পর নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস (NetBlocks) এক বিবৃতিতে জানায়, আফগানিস্তানের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা সংস্থা বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও স্ন্যাপচ্যাটে প্রবেশ সীমিত করেছে। গত সপ্তাহে দেশব্যাপী যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করে।বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে বেশ কয়েকটি বড় ইন্টারনেট প্রদানকারী সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা গত সপ্তাহের যোগাযোগ বিপর্যয়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে মনে হচ্ছে।”উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেটব্লকস আফগানিস্তানে পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধের খবর দেয়, যা তালেবান সরকারের ‘নৈতিকতা রক্ষা অভিযান’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।পরের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন জানায়, প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এতে ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তবে ইন্টারনেট সংযোগ আংশিক পুনরুদ্ধারের পর তালেবান সরকার জানায়, দেশজুড়ে কোনো ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, বরং “পুরনো ও দুর্বল অবকাঠামো”র কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে।নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশে একাধিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কনটেন্ট ফিল্টারিং ও অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও সময় অপচয় রোধ করা যায়।সরকারের এক মুখপাত্র জানান, “আমরা কোনো নাগরিকের তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করতে চাই না। বরং সমাজে শালীনতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য কিছু কনটেন্টে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।”বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগ যদি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হয়, তবে তা সমাজের নৈতিকতা রক্ষা ও অনলাইন আচরণ সংস্কারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তবে কিছু অধিকারকর্মী বলছেন, সরকার যেন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অযথা হস্তক্ষেপ না করে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৫ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত