প্রকাশের তারিখ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ায় বোরকা পরে প্রতিবাদ—সিনেটর পলিন হ্যানসন এক সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত
অস্ট্রেলিয়ার সংসদে বোরকা পরে প্রতিবাদ করার ঘটনাকে ধর্মীয় পোশাকের প্রতি প্রকাশ্য অসম্মান ও একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উপহাস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির আইনসভা। এ ঘটনার পর কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর পলিন হ্যানসনকে এক সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন পার্টির কুইন্সল্যান্ড সিনেটর পলিন হ্যানসন জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার দাবিতে বোরকা পরে সিনেটে প্রবেশ করেন। অন্যান্য সদস্যরা তাকে বিল উত্থাপন থেকে বিরত করলে তিনি আবারো বোরকা পরে কক্ষে ফিরে আসেন। এই আচরণকে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় ইতিহাসে অত্যন্ত অশোভন ও বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।গ্রিনস দলের সিনেটর মেহরিন ফারুকী ঘটনাটিকে “স্পষ্ট বর্ণবাদ” বলে মন্তব্য করেন। স্বাধীন সিনেটর ফাতিমা পেম্যান বলেন, এটি ছিল “গভীরভাবে অপমানজনক” আচরণ। সরকারের পক্ষ থেকে সিনেটের নেতা পেনি ওং একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং জানান, হ্যানসন দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে কুসংস্কার ছড়ানোর রাজনীতি করে আসছেন।৫৫–৫ ভোটে পাস হওয়া এই নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়, হ্যানসনের আচরণ ছিল “ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে উপহাস ও অপমান করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং এটি অস্ট্রেলিয়ার বহুত্ববাদী মূল্যবোধকে বিতর্কিত করেছে।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেও পলিন হ্যানসন সংসদে বোরকা পরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছিলেন। এরও আগে, ২০১৬ সালে সিনেটে তার প্রথম বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন যে দেশটি “একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দ্বারা জলাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে” রয়েছে—যা ১৯৯৬ সালের তার আরেক বিতর্কিত বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি, যেখানে তিনি “এশীয়দের দ্বারা জলাবদ্ধ” হওয়ার সতর্কতা দিয়েছিলেন।
হ্যানসনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে বিশ্লেষকরা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বিভাজনমূলক বক্তব্যের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। দেশটির আইনপ্রণেতারা ঘটনাটিকে সামগ্রিকভাবে সমাজের সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
কপিরাইট © ২০২৫ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত