প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ফ্রান্সের মুসলমানদের তথ্য ইসরাইলকে সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত দাবী
ফ্রান্সের মুসলমানদের ব্যক্তিগত তথ্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জরুরি তদন্তের দাবী জানিয়েছে ‘ফরাসি কাউন্সিল ফর মুসলিম ফেইথ (CFCM)’। অভিযোগে রাজনীতি, প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করা হচ্ছে।ফরাসি কাউন্সিল ফর মুসলিম ফেইথ (CFCM) শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দু’জন ব্যক্তি ফ্রান্সের মুসলমানদের ওপর নজরদারি চালিয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।এই অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্রে সামনে আসে। এতে ফরাসি লেখক দিদিয়ে লং স্বীকার করেন যে, তিনি ২০২৩ সাল থেকে ফ্রান্সের ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা (CRIF) ও আরও কয়েকটি ইহুদি সংগঠনের হয়ে মুসলমানদের নিয়ে গবেষণা করছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দোভ মিমান, যিনি ইসরাইলি সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।লং দাবি করেন, তিনি ফরাসি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা বিভাগ (DGSI) ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সংগৃহীত তথ্য ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে জমা দিয়েছেন।CFCM-এর অভিযোগ—লং ও মিমান মুসলমানদেরকে ফ্রান্সে বসবাসকারী ইহুদিদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা ধর্মীয় বৈষম্য ও ইসলামফোবিয়ারকে উসকে দিতে পারে।এ কারণে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তদন্তে নামার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সংগৃহীত ও ব্যবহার করা তথ্য নিয়ে জাতীয় তথ্য ও স্বাধীনতা কমিশনে (CNIL) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।ফ্রান্সের নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে এ ঘটনা বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুসলিম প্রতিনিধিদের মতে, এই অভিযোগ সত্য হলে তা মুসলমানদের ওপর নজরদারি ও বৈষম্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।
কপিরাইট © ২০২৫ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত