প্রকাশের তারিখ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
ওড়িশায় গরু পাচারের অভিযোগে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ৫ জন গ্রেপ্তার
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালাসোর জেলায় গরু পরিবহনের অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল উগ্রবাদী। বুধবার ভোরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শেখ মাকান্দার মোহাম্মদ নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।ওড়িশার বালাসোর জেলায় তথাকথিত 'গো-রক্ষক' বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় শেখ মাকান্দার মোহাম্মদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার ভোর ৫টার দিকে মাকান্দার একটি পিকআপ ভ্যানে করে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে একদল উগ্রবাদী ব্যক্তি গাড়িটি থামিয়ে চালক এবং মাকান্দারের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারীরা মাকান্দারকে আক্রমণ করার সময় জোরপূর্বক 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি দিতে বাধ্য করছিল। অভিযুক্ত বাপু, পবন, পিন্টু, নেপালি এবং চিনু তেলেঙ্গা পাইপ, ছুরি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকান্দারকে নির্মমভাবে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বালাসোর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর বালাসোর সদর থানা পুলিশ যে প্রাথমিক এজাহার (FIR) দায়ের করেছিল, সেখানে হামলার কোনো উল্লেখ ছিল না। উল্টো পুলিশ ভ্যান চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ‘গবাদি পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইন’ ও ‘ওড়িশা গো-হত্যা প্রতিরোধ আইন’-এর অধীনে মামলা করে। পুলিশের প্রথম রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ায় চালক আহত হয়েছেন।পরবর্তীতে নিহতের ভাই শেখ জিতেন্দ্র মোহাম্মদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্বিতীয় একটি এফআইআর দায়ের করে। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, মাকান্দারকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপরই পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২) ধারায় (গণপিটুনি বা মবিংয়ের মাধ্যমে হত্যা) মামলা দায়ের করে পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করে দেখছে যে এই হামলার পেছনে আরও বড় কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক উস্কানি ছিল কি না।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত