প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
খালি বাড়িতে নামাজ পড়ায় ১২ মুসলিম আটক: ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় একটি ব্যক্তিগত খালি বাড়িতে একত্রিত হয়ে নামাজ পড়ার অভিযোগে ১২ জন মুসলিম ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে এই ঘটনাটি ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার বিশরাতগঞ্জ থানা এলাকার মোহাম্মদগঞ্জ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের হানিফ নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি বাড়ি দীর্ঘ দিন ধরে খালি পড়ে ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি সেই খালি জায়গায় একত্রিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করছিলেন।গত রবিবার নামাজ চলাকালীন গ্রামের অন্য একটি গোষ্ঠী এতে আপত্তি জানায় এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে বিশরাতগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে সম্মিলিতভাবে নামাজ পড়ার কোনো লিখিত অনুমতি আছে কি না তা জানতে চান। কোনো বৈধ অনুমতিপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ সেখান থেকে ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশের অভিযানের সময় আরও তিন ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যেতে সক্ষম হন।থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) আনিস আহমেদ জানান, "আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ধরনের সম্মিলিত জমায়েতের জন্য প্রশাসনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হয়। তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাই প্রচলিত আইনে তাদের আটক করা হয়েছিল।"আটককৃতদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে একই দিনে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়। জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) আনশিকা ভার্মা গণমাধ্যমকে বলেন, "এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ। আগাম অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন প্রথা বা বড় জমায়েত আয়োজন করা নিয়মবহির্ভূত। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনায় একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"তবে পুলিশের এই ভূমিকাকে ‘অযৌক্তিক এবং কঠোর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। এক গ্রামবাসী আক্ষেপ করে বলেন, "নামাজ কোনো পাবলিক প্লেস বা রাস্তায় পড়া হচ্ছিল না, এটি ছিল একটি ব্যক্তিগত বাড়ির অভ্যন্তরে। এতে কারো চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়নি বা কেউ বিরক্ত হননি। ইবাদত করার জন্য আটক করার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।"ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সকল পক্ষকে শান্তি বজায় রাখার এবং কোনো ধরণের বড় জমায়েতের আগে অনুমতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত