প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাহে রমাদ্বান: জীবনভর গুণাহ মাফের এক মহতী মাস
রজব ও শাবান হল, রমাদ্বানের পূর্ব প্রস্তুতির মাস। হাদিসের নবীর আলোকে এই কথাটি স্বতঃসিদ্ধ। এই সময়ে মুমিনদের হৃদয়ে রাজ্যে নেমে আসে এক অন্যরকম প্রশান্তি ও আমেজ। রমাদ্বানের রহমত বরকত ও অফুরন্ত মাগফিরাতের ঝলক যেন তখন ছড়িয়ে যায় সারা জগৎজুড়ে। আর এমন মুহূর্তে মুমিনদের জবানে নবীজির নির্দেশিত একটি দোয়া বারবার উৎসারিত হয়- " আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদ্বান"।এক সময় অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে এখন আমরা রমাদ্বানের পবিত্র সময়গুলোকে অতিবাহিত করতে চলেছি। এই মাস অত্যন্ত পবিত্র মাস। কোরআন নাজিলের মাস । কুরআনের ভাষায় তাকওয়া অর্জনের মাস।আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ۙঅর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়"। —আল বাকারা - ১৮৩এ ছাড়াও রমাদ্বানজুড়ে রয়েছে মুমিনদের জন্য গুনাহ মাফের এক অফুরন্ত সুযোগ। কেউ যদি চায় তার জীবনের সকল গুনাহ মাফ করতে, তাহলে রমজান যেন তার জন্য এক অনন্য মাস।নবীজি সাঃ এরশাদ করেন, "ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যে রমাদ্বান পেল, কিন্তু নিজের জীবনের গুনাহ মাফ করতে পারল না" । (তিরমীজি: ৫৪৫৩)রমাদ্বানের প্রত্যেক রাতে মহান রবের পক্ষ থেকে গুনাহ মাফের ডাকমূলত, পুরো রমাদ্বান জুড়ে মহান রব্বুল আলামীন বান্দার জন্য ক্ষমার হাত প্রসারিত করে রাখেন। বান্দা যখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাআলার সাথে সাথে ঐ বান্দার জীবনের গুনাহ গুলোকে মাফ করে দিবেন। বিশেষ করে রমাদ্বানের প্রত্যেক রাত্রে আল্লাহ তায়ালা বান্দার দিকে বিশেষভাবে তাকিয়ে থাকেন। ইবনে মাজাহ শরীফের বর্ণনা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- " প্রত্যেক রাত্রিতে একজন ঘোষক আসমান থেকে ঘোষণা করেন, হে ভালো কাজের অগ্রগামী! তুমি ভালো কাজে আরও অগ্রগামী হও। এবং হে খারাপ কাজে লিপ্তব্যক্তি! তুমি খারাপ কাজকে বন্ধ করো। আর আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন। এভাবে চলতে থাকে প্রত্যেক রাত্রিতে" ( ইবনে মাজাহ: ১৬৪২)একজন রোজাদারকে ইফতার করানো দ্বারা জীবনের গুনাহ মাফআমাদের সমাজে অনেকে দারিদ্রতার কারণে পেট পুরে ইফতার করতে পারেনা। অথচ, আমরা নানা ধরনের আইটেম দিয়ে ইফতার করে থাকি। ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। সমর্থ্য অনুযায়ী কেউ যদি কোনো রোজাদারকে ইফতারি করায়; আল্লাহ তাআলা তার জীবনের গুনাগুলোকে মাফ করে দেবেন ।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন - "যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতারি করাবে আল্লাহ তাআলা তার জীবনের গুনাগুলোকে মাফ করে দেবেন। এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন। এবং সেই রোজাদারের সমতুল্য সাওয়াব তাকে দান করবেন।" ( ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)অধিনস্ত কর্মচারীদের থেকে বোঝা হালকা করলে গুনাহ মাফআমাদের অধীনস্থদের মধ্যে অনেকে রয়েছে। চাই সে আমার কর্মচারী হোক, অথবা আমার স্ত্রী বা ছেলে মেয়ে। রমজানের মুহূর্তে কেউ যদি অধীনস্থদের থেকে কাজের বোঝা হালকা করে দেয় আল্লাহ তাআলা তাকে দুটি পুরস্কার দান করবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন - "যেই ব্যক্তি তার অধিনস্তদের কাজের বোঝা হালকা করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার জীবনের গুনাগুলোকে মাফ করে দেবেন এবং তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোয়ানা জারি করবেন"। ( ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)সুবহানাল্লাহ! কত আজিমুশশান পুরস্কার! আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে এর উপরে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন!
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত