প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: আকাশপথ রুদ্ধ, পালানোর নতুন রুট এখন মিশরের তাবা
ইরানের পাল্টা হামলার মুখে ইসরায়েলের আকাশসীমা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিদেশি নাগরিক ও স্থানীয়দের দেশ ছাড়ার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে মিশরের সীমান্ত শহর তাবা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা জবাব দিলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচাতে এবং জরুরি গন্তব্যে পৌঁছাতে হাজার হাজার মানুষ এখন এই ছোট রিসোর্ট শহরটিকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন।সংকট ও তাবা ক্রসিংয়ের গুরুত্ব
লোহিত সাগরের তীরবর্তী শান্ত ও পর্যটননির্ভর শহর তাবা এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নতুন এক বাস্তবতার সাক্ষী। ইসরায়েলি আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে হাজার হাজার যাত্রী এখন তাবা সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে মিশরে প্রবেশ করছেন। এখান থেকে অনেকে কায়রো বা অন্যান্য রুটে ইউরোপের পথে পাড়ি দিচ্ছেন। আবার যারা বিদেশে আটকা পড়েছিলেন, তারা তাবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বাসে করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইসরায়েলে প্রবেশ করছেন।পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন:
যাত্রীদের এই অভাবনীয় চাপ সামলাতে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিসরে চলা তাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি পূর্ণ উদ্যমে পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই রুটটিকে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিমান সংস্থাগুলোও তাদের আঞ্চলিক রুটে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।নতুন ফ্লাইট রুট: ১ মার্চ ইসরায়েলি বিমান সংস্থা 'আরকিয়া' তাবা ও এথেন্সের মধ্যে বিশেষ ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে তারা জানায় যে, ইউরোপের অন্তত ৬টি গন্তব্য থেকে সরাসরি তাবায় ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সাইপ্রাস এবং গ্রিসের বিমান সংস্থাগুলোও এই ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।নিরাপত্তা উদ্বেগ ও এল আল-এর অবস্থান
ইসরায়েলের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা 'এল আল' শুরুতে তাদের কার্যক্রম তাবায় সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিবিড় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বড় বাণিজ্যিক বিমানগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোর হওয়ায় সংস্থাটি বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।আঞ্চলিক প্রভাব
বর্তমানে তাবা শহরটি কেবল একটি সীমান্ত পয়েন্ট নয়, বরং একটি মানবিক ও কৌশলগত করিডোরে পরিণত হয়েছে। সাধারণ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকলেও এখন সেখানে কেবলই উদ্বেগ আর বাড়ি ফেরার তাড়ায় থাকা মানুষের ভিড়। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ট্রানজিট পয়েন্টটির ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত