প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরানের ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের পরবর্তী শাসককে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনেও ওয়াশিংটনের প্রভাব থাকবে।শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পরবর্তী নেতা কে হবেন, তা নির্ধারণে তাঁর প্রশাসনের ভূমিকা থাকবে এবং বিষয়টি ভেনেজুয়েলার মতোই "সহজ" হবে।উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার শাসনভার পরিচালনা করবে এবং দেশটির তেল খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে।ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "ইরানের পরবর্তী নেতাকে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। তাকে আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র), ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদার দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে হবে।" ইরানে কোনো ধর্মীয় নেতা ক্ষমতায় থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "ব্যক্তিভেদে আমার এতে কোনো আপত্তি নেই। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কাজ করি, তারা চমৎকার মানুষ।"বর্তমানে ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যারা দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য চতুর্থবারের মতো বৈঠকে বসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর এই রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই সংঘাতের ফলে খামেনীসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় অনেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই পাল্টা হামলায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটায় আরব বিশ্ব তেহরানের কঠোর সমালোচনা করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত