প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
ইরানকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইরানকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে চীন বা ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে China সম্ভাব্যভাবে Iran-কে আর্থিক সহায়তা, সামরিক সরঞ্জামের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত চীন সরাসরি সংঘাতে অংশ নেয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে যে বেইজিং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে পরোক্ষভাবে লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে। এতে অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি সামরিক প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশও থাকতে পারে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের একটি অংশ বলছে, চীন এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ইরানি জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে চীন চাইবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকুক। এ কারণে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ওই প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও বেইজিং ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia। যদিও এ বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরান আদৌ চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। মার্কিন সংবাদমাধ্যম NBC News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তারা আমাদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিক দিয়ে সাহায্য করছে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে এই ঘটনার নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত