প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের
মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে আবারও মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসায় জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। টানা ছয় দিন ধরে বন্ধ থাকা এই পবিত্র প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ রদ করায় ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।ইসরায়েলি পুলিশ এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পবিত্র কুদস বা জেরুজালেমের 'ওল্ড সিটি' এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের দাবি, ইরান ও তার মিত্রদের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে তেল আবিবসহ অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে 'জরুরি অবস্থা' জারি রয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এবং সম্ভাব্য জনসমাগম থেকে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা রোধে আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায়সহ সকল প্রকার ধর্মীয় জমায়েত স্থগিত করা হয়েছে।" ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বিতভাবে ইরানে হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি কোনো ধর্মীয় বাধা নয় বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে নেয়া একটি 'প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ'।শুক্রবার (০৬ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, কুদসের ওল্ড সিটির প্রতিটি প্রবেশপথে ভারী অস্ত্রসহ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফজরের নামাজ থেকেই মুসল্লিদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। গত ৬ দিন ধরে আল-আকসা চত্বর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার পর আজ পূর্ণাঙ্গ অবরোধ আরোপ করা হলো।এর আগে রমজানের প্রথম দুই জুমায় কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল, যার ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইবাদত থেকে বঞ্চিত হন। মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের সমান্তরালে আল-আকসা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কুদসের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধের অজুহাতে ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মধ্যে গভীর মানবিক ও আধ্যাত্মিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।অধিকৃত অঞ্চলের জনগণের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিশ্চিত করা দখলদার শক্তির দায়িত্ব। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থা ইতিপূর্বে বারবার সতর্ক করেছে যে, নিরাপত্তার অজুহাতে ঢালাওভাবে উপাসনালয় বন্ধ রাখা সম্মিলিত শাস্তির শামিল, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার খর্ব করা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আল-আকসার মর্যাদা রক্ষা এবং সেখানে মুসলিমদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা শুধু ফিলিস্তিনিদের অধিকার নয়, বরং এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আবেগের সাথে জড়িত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল উদ্বেগ প্রকাশ না করে, পবিত্র স্থানগুলোর পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমেই কেবল এই বৈষম্যমূলক আচরণের অবসান ঘটানো সম্ভব।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত