প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
ইউনেস্কোতে প্রথমবারের মতো পালিত হলো আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মুসলিম বিদ্বেষ মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO)-তে প্রথমবারের মতো পালিত হলো 'আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া বিরোধী দিবস'। তুরস্কের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশেষ প্যানেল আলোচনায় বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞরা ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ দূর করতে শিক্ষা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ঘৃণা ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বান জানানো হয় এই অনুষ্ঠান থেকে।ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ১৫ মার্চ এই বিশেষ দিবসটি উদযাপিত হয়। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (OIC) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তুরস্কের নেতৃত্বে "ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা: শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সংলাপের মাধ্যমে মানবাধিকার শক্তিশালীকরণ" শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউনেস্কোর সামাজিক ও মানবিক বিজ্ঞান খাতের পরিচালক গুস্তাভো মেরিনো বর্তমান বিশ্বে মুসলিম বিদ্বেষের কারণ ও এর বিভিন্ন রূপ তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সভ্যতা জোটের উচ্চপ্রতিনিধি মিগুয়েল আনহেল মোরাতিনোসের একটি ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয় এবং ওআইসি-র ইসলামোফোবিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. মেহমেত পাচাচি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা বর্তমান সময়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন:মিডিয়ার ভূমিকা: সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম বিরোধী বক্তব্য যেভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।নারীদের নিরাপত্তা: মুসলিম নারীরা কীভাবে দ্বিমুখী স্টিরিওটাইপিং বা কুসংস্কারের শিকার হচ্ছেন, তা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।আইনি সুরক্ষা: বর্ণবাদ ও বিদেশিভীতি থেকে সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভূমিকা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।আলোচনায় ফ্রান্সের কাউন্সিল অব মুসলিম ফেইথ-এর সহ-সভাপতি ইব্রাহিম আলসি, ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ফ্রঁসোয়া লরসেরি এবং ইরান ও উজবেকিস্তানের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ অংশ নেন। তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সহনশীলতা বজায় রাখতে এবং ইসলামোফোবিয়াকে রুখে দিতে শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৫ মার্চকে 'আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া বিরোধী দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২৩ সালে তুরস্কের বিশেষ প্রচেষ্টায় ইউনেস্কোর নথিপত্রে প্রথমবারের মতো 'ইসলামোফোবিয়া' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক খালিদ আল-আনানির উপস্থিতিতে এক বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত