প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
তেলেঙ্গানায় ঈদের আগে ঈদগাহ ভাঙচুর ও অবমাননা: চরম উত্তেজনার মুখে মামলা দায়ের
আসন্ন ঈদুল ফিতরের মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের জগতিয়াল জেলায় একটি ঈদগাহ অবমাননা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উগ্রপন্থী একদল দুর্বৃত্ত পবিত্র ঈদগাহ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ মামলা দায়ের করলেও মূল অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।গত ২০ মার্চ, শুক্রবার জগতিয়াল জেলার বীরপুর মন্ডলের নরসিংহুলাপল্লী গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যখন ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহ পরিষ্কার করতে যান, তখন একদল উগ্রপন্থী সমাজবিরোধী তাদের বাধা দেয়। এরপর একদল দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক ঈদগাহে প্রবেশ করে মিম্বর (যেখানে দাঁড়িয়ে ইমাম খুতবা দেন) ভাঙচুর করে এবং সেখানে একটি জাফরান (গেরুয়া) পতাকা উত্তোলন করে ধর্মীয় আচার পালন করে।এই ঘটনার ফলে গত ২১ মার্চ স্থানীয় মুসল্লিরা ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে পারেননি। গ্রামবাসী মোহাম্মদ করিমের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৩ মার্চ পুলিশ একটি মামলা (FIR) নথিভুক্ত করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (BNS) অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ (৩২৯/৩), বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি (১৯৬/২) এবং উপাসনালয় অপবিত্র করার (২৯৮) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।এজহারে বীরপুরের বর্তমান সারপঞ্চ হরিশ, উপ-সারপঞ্চ জিতেন্দর, অন্ধ্র জ্যোতি পত্রিকার সাংবাদিক বেণু, সাবেক সারপঞ্চ রমেশ, বিজেপি মন্ডল সভাপতি পাঠা রমেশ এবং বিজেপি কাউন্সিলর কোন্ডা লক্ষ্মণসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।মজলিস বাচাও তাহরিক (MBT)-এর মুখপাত্র আমজেদ উল্লাহ খান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মুসলিম প্রতিনিধি দল এসপি অশোক কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে প্রথমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মিল্লাত-ই-ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল বারি এবং মুফতি ইউনুস খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সাথে দেখা করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। আমজেদ উল্লাহ খান আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মুসলিম বাসিন্দাদের জমির নথিপত্র দেখানোর নোটিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ন্যায়বিচার ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ ধরনের গুরুতর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া বন্ধ করতে হবে।" বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত