প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
আল-আকসায় মুসলিমদের ইবাদতের অধিকার খর্ব করা অসম্ভব: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ঘোষণা করেছেন যে, কোনো অজুহাতেই পবিত্র المسجد الأقصى বা আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের ইবাদতের অধিকার খর্ব বা নিষিদ্ধ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদর দপ্তরে এক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসায় ঈদের নামাজ হতে না দেওয়া ২০০ কোটি মুসলিমের বিশ্বাসের ওপর এক নগ্ন হামলা।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছে। তিনি বলেন, "একটি ঘৃণ্য নিধনযজ্ঞের জাল ধর্মীয় অজুহাতের আড়ালে পুরো অঞ্চলকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।" এরদোয়ান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম আল-আকসা মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, যা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির চরম অবজ্ঞা।ইরানের ওপর চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, এই অঞ্চল এখন রক্ত ও বারুদের গন্ধে শ্বাসরোধকর অবস্থায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "ইসফাহান বা তেহরানে যে অশ্রু ঝরছে, তার সাথে এরবিল, বাগদাদ, বৈরুত বা রিয়াদের অশ্রুর পার্থক্য কোথায়?" তিনি শিয়া-সুন্নি বা তুর্কি-কুর্দি-আরব-পার্সিয়ান বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, গত ২৭ দিন ধরে যারা হামলা চালাচ্ছে, তাদের কাছে কোনো নীতি বা মানবিক মূল্যবোধের বালাই নেই।তুর্কি প্রেসিডেন্ট সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা কেবল প্রতিবেশি ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করছে না, বরং ধাপে ধাপে লেবানন দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তুরস্ক তার বন্ধু ও ভাইদের বিপদে একা ফেলে রাখবে না।এরদোয়ান আরও বলেন, "বোমা আর মিসাইলের গর্জন যখন থেমে যাবে, তখন আমাদের এই অঞ্চলেই একসাথে বসবাস করতে হবে। তাই এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া উচিত নয় যা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে শত্রুতা বাড়ায় এবং জায়নবাদী বিভাজন ও শাসনের পরিকল্পনাকে সহায়তা করে।" তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত