প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
ভারতে মুসলিমরা নিরাপত্তাহীনতা ও অবমাননার শিকার: জমিয়ত প্রধান মাহমুদ মাদানি
ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠী চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অবমাননার বোধ নিয়ে দিনাতিপাত করছে। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি এক সাক্ষাৎকারে এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্তরাই চোখ বন্ধ করে থাকেন, তখন সংকট আরও ঘনীভূত হয়।ভারতের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা আইএএনএস-এর সাথে আলাপকালে ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। মাদানি বলেন, "ভারতের মতো বিশাল দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বর্তমানে মুসলিমরা নিজেদের কোণঠাসা এবং অনিরাপদ বোধ করছেন।"তার মতে, এই অস্বস্তি কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ফল নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক ধরন ও প্রশাসনের একপেশে মানসিকতার প্রতিফলন। তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন ও পুলিশের একটি অংশ সরাসরি পক্ষপাতিত্ব করছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।আসামের অভিবাসন ইস্যু নিয়ে মাদানি অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমাদের প্রায়ই 'বাংলাদেশি' বলে গালি দেওয়া হয়। আমাদের পরিষ্কার কথা—ধর্ম নির্বিশেষে যে কেউ যদি বৈধ নথিপত্র ছাড়া বিদেশী নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তাদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। কিন্তু একে ধর্মীয় চশমায় দেখা বন্ধ করতে হবে।" তিনি আরও জানান যে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী তাকে পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।নির্বাচনী ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাদানি। তিনি দাবি করেন, এই অসন্তোষ কেবল মুসলিমদের মধ্যে নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের সংগঠনের সিনিয়র সদস্যরা বিলটি পর্যালোচনা করছেন এবং এরপরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।উত্তরপ্রদেশে রাস্তায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, "যদি নিয়ম হয় যে রাস্তায় কোনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ড হবে না, তবে সেই নিয়ম সবার জন্য সমান হতে হবে। এটি যেন কোনোভাবেই একপেশে বা কেবল একটি বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা না হয়।" এছাড়া আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে একজন দক্ষ নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি। মাদানির এই মন্তব্য ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সমান নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত