প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
নামাজের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বলায় আক্রমণের শিকার: উগ্রহিন্দুত্ববাদের নিশানায় ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
ভারতের বিশিষ্ট উদ্যোক্তা এবং 'শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া'র জনপ্রিয় বিচারক নমিতা থাপার সম্প্রতি সাইবার বুলিং ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। নামাযের শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর তাকে এবং তার মাকে লক্ষ্য করে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে চলা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জেরে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমানের অনলাইন সংস্কৃতির নৈতিকতা নিয়ে।ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চ মাসে, যখন এমকিউর ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক নমিতা থাপার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নামাযের বিভিন্ন ভঙ্গিকে 'ফুল-বডি এক্সারসাইজ' বা পূর্ণাঙ্গ শারীরিক ব্যায়াম হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, নামাযের বিভিন্ন মুদ্রা নমনীয়তা বৃদ্ধি করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং জয়েন্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। বিশেষ করে 'বজ্রাসনে'র মতো ভঙ্গি হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তবে এই তথ্যবহুল ভিডিওটি একদল উগ্রপন্থী নেটিজেন সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। গত তিন সপ্তাহ ধরে নমিতাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ করা হয়। এমনকি তার বৃদ্ধা মাকেও কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়েনি ট্রলকারীরা।এর প্রতিক্রিয়ায় ২০ এপ্রিল এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নমিতা বলেন, "আমি একজন স্বাস্থ্যসেবা পেশাদার। আমি এর আগে হিন্দুধর্মীয় রীতি-নীতি এবং ইয়োগা নিয়ে বহু ভিডিও করেছি। সূর্য নমস্কার বা বিভিন্ন আসন নিয়ে পোস্ট করলে কেউ আপত্তি করে না, কিন্তু নামাযের উপকারিতা বলাতেই আমাকে ও আমার মাকে গালি শুনতে হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "আমাকে শেখানো হয়েছে 'R for Religion, R for Respect'। অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা করা মানে নিজের ধর্মকে ছোট করা নয়। আমি একজন গর্বিত হিন্দু, কিন্তু আমি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।"নমিতা থাপার বিশেষভাবে নারীর প্রতি অসম্মানের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং প্রশ্ন করেন যে কেন নারীবাদীরা এমন জঘন্য আক্রমণের মুখে নিশ্চুপ থাকেন। তিনি ট্রলকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তিনি নিজের জন্য লড়তে জানেন এবং ট্রলকারীরা যেন 'কর্মফল' বা কারমার কথা ভুলে না যায়। তার এই প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় সহনশীলতা ও নারীর প্রতি অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তিকে আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও বৈশ্বিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। ভারতীয় সংবিধানের ২৫-২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজের ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং জ্ঞান চর্চার অধিকার রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অনলাইনে নারীদের লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য (Gender-based abuse) এবং ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো (Hate Speech) আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (ICCPR) লঙ্ঘন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত