প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজের স্কুলে ফুলের শুভেচ্ছা প্রত্যাখ্যান করে ক্ষোভ প্রকাশ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হলেন স্থানীয়রা। নিজের সাবেক বিদ্যাপীঠ কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত না হয়েও পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ফিরিয়ে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে শিক্ষকদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি প্রথাগত রাজনীতিকদের মতো নন।শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।ক্ষুব্ধ ডেপুটি স্পিকার শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি অপেক্ষা করছিলাম স্কুল থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। কেউ ডাকে নাই। আমি নিজেই প্রোগ্রাম দিয়েছি। আমিই আপনাদের কাছে আসছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা ফুল নিয়ে বাড়িতে চলে যান। আমি সেই ধরনের এমপি নই।”এরপর শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বসেন ডেপুটি স্পিকার। সেখানে বিদ্যালয়ের নাজুক প্রশাসনিক ও একাডেমিক চিত্র উঠে আসে। ২৮ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে মাত্র ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকায় তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন। এছাড়া দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে, সেই বিষয়েও তিনি কড়া প্রশ্ন তোলেন।নির্বাচিত প্রতিনিধির সাথে সমন্বয় না করে সরকারি দপ্তরে সরাসরি চাহিদা পত্র (ডিমান্ড নোটিশ) পাঠানোয় তিনি শিক্ষকদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না যে, এই এলাকায় একজন এমপি আছেন? নির্বাচিত প্রতিনিধির সাথে সমন্বয় না করা দুঃখজনক।”শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। নিজেদের শিক্ষক হিসেবে ভাবুন। কোনো দলীয় নেতা বা দলের কাছে ধরনা দিতে হবে না। আপনাদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবে।” তার এই কড়া বক্তব্যের সময় সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নীরব ছিলেন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত