প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বসনিয়া যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া ঐতিহাসিক দুগালিকা মসজিদ পুনরায় চালু: বলকানে ইসলামের বিজয় নিশান
বসনিয়া যুদ্ধের সময় (১৯৯২-১৯৯৫) সার্ব বাহিনীর হাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক 'দুগালিকা মসজিদ' দীর্ঘ তিন দশক পর আবারও আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হলো। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহায়তায় এবং মূল স্থাপত্যশৈলী বজায় রেখে মসজিদটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার এক জমকালো ও আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নেভেসিনজে শহরে অবস্থিত ১৫১৫ সালে হাজি ভেলিজুদিন বাকরাচ নির্মিত ঐতিহাসিক 'দুগালিকা মসজিদ'টি ছিল এই অঞ্চলের ওসমানীয় বা অটোমান ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন। ১৯৯২ সালে যুদ্ধের সময় সার্ব বাহিনী মসজিদটিকে ডিনামাইট দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল, যাতে এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে। তবে তুরস্কের ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফাউন্ডেশনস’ (Vakıflar) ২০২৩ সালে মসজিদটি এবং এর পাশের ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ার পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এমিন আকসেকি, ডিরেক্টরেট প্রধান সিনান আকসু এবং বসনিয়ার ইসলামি ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের সময় ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো মসজিদের মিনারে সবুজ জমিনে সাদা চাঁদ-তারা খচিত বসনিয়ান ইসলামি পতাকা উত্তোলন করা হয়।সিনান আকসু তার বক্তব্যে বলেন, "দুগালিকা মসজিদটি পাশে থাকা গির্জার সাথে মিলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল। আমরা আর্কাইভের নথি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এর আদি রূপ ফিরিয়ে এনেছি।"উল্লেখ্য যে, নেভেসিনজে এক সময় মুসলিম প্রধান এলাকা হলেও যুদ্ধের সময় হওয়া গণহত্যার ফলে বর্তমানে এটি সার্ব অধ্যুষিত। মসজিদটি খোলার সংবাদ পেয়ে বসনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মুসলিম তাদের জন্মভিটায় ফিরে আসেন। অনেকের চোখেই ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজের ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার অশ্রু। এই প্রকল্পের সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী মাকতাব, ওজুখানা এবং ক্লক টাওয়ারটিও সংস্কার করা হয়েছে। একই দিনে ব্ল্যাগাজ এলাকায় 'মুরাদ সিপাহি মসজিদ' পুনর্নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত