প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলি বাহিনীতে আত্মহত্যার হার ভয়াবহ বৃদ্ধি: এপ্রিলেই ১১ জনের মৃত্যু
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘হ্যারেৎজ’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন ইসরায়েলি সেনা ও পুলিশ সদস্য আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক ট্রমা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভেতরে এক গভীর সংকট দানা বাঁধছে। হ্যারেৎজ-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে যারা আত্মহত্যা করেছেন তাদের মধ্যে ৬ জন নিয়মিত (active duty) সেনা সদস্য, ৩ জন রিজার্ভিস্ট বা সংরক্ষিত সেনা এবং ২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। উল্লেখ্য, এই ৩ জন সংরক্ষিত সেনা গাজায় সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তবে আত্মহত্যার সময় তারা সক্রিয় ডিউটিতে ছিলেন না।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন নিয়মিত সেনা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। এটি কেবল ডিউটিতে থাকা সেনাদের হিসাব; এর বাইরে সংরক্ষিত সেনা ও পুলিশের পরিসংখ্যান যুক্ত করলে সংখ্যাটি আরও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়।২০২৫ সালে ইসরায়েলি বাহিনীতে মোট ২২ জন সেনার আত্মহত্যার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা ছিল গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মাত্র এক মাসেই সেই সংখ্যার অর্ধেক (১১ জন) স্পর্শ করেছে। এটি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের এক চরম বিপর্যয়কে নির্দেশ করছে।হ্যারেৎজ-এর গবেষণায় উঠে এসেছে যে, গত তিন বছর ধরে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান এবং বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা সেনাদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অনেক সেনা সদস্য যুদ্ধের ময়দান থেকে ফেরার পর ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ (PTSD)-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। আগের প্রতিবেদনগুলোতে গাজায় কর্মরত সৈন্যদের মধ্যে "নৈতিক অবক্ষয়" এবং দীর্ঘমেয়াদী ট্রমায় ভোগার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।ইসরায়েলি সেনাদের এই মানসিক সংকটের সমান্তরালে গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১,০০০-এর বেশি শিশু। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ধ্বংসযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এই চরম সহিংসতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু অনেক ইসরায়েলি সেনার ওপর নেতিবাচক মানসিক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত