প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
আফগানিস্তানে পাকিস্তানি হামলার নিন্দা আল-কায়েদার: ইসলামি আমিরাতকে সমর্থনের ঘোষণা ও পাক সরকার পতনের ডাক
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় কমান্ড। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারকে ‘আমেরিকার অনুগত’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছে।আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় কমান্ড তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, আফগানিস্তান বর্তমানে পৃথিবীর বুকে টিকে থাকা একমাত্র প্রকৃত ইসলামি রাষ্ট্র। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ‘ক্রুসেডার-জায়নিস্ট’ শক্তি এই রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে এবং একে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সংগঠনটি সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান মূলত আমেরিকার নির্দেশে আফগানিস্তানের ওপর এই হামলা চালিয়েছে।বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর ফেলে যাওয়া সামরিক সরঞ্জামগুলোকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের হামলা চালানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল-কায়েদা ঘোষণা করেছে যে, তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের ইসলামি আমিরাতকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।এই হামলা ও পাল্টাহামলার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আফগান সীমান্তের সাধারণ নাগরিকরা এই অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল-কায়েদার এই বিবৃতি পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মুসলিম জনতা এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সরকার পতনের যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সীমান্তে বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে আল-কায়েদার এই দাবির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।গত কয়েক মাস ধরে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে আফগান ভূমি ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে, যা কাবুল কর্তৃপক্ষ বরাবরই অস্বীকার করেছে।আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সামরিক উস্কানির পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেকোনো উগ্রবাদী উস্কানি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত