প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
কয়েক দশকের পুরোনো জামে মসজিদকে 'থানার জমি' দাবি: ওয়াকফ বোর্ডের নথি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে কমিটি
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে একটি ঐতিহাসিক জামে মসজিদকে থানার জমিতে নির্মিত দাবি করে ইমামকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ‘থানে ওয়ালি মসজিদ’ নামে পরিচিত এই মসজিদটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হলেও মসজিদ ম্যানেজমেন্ট এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইমাম আবদুল গাফফারের দাবি, জমিটি সম্পূর্ণ বৈধ এবং ১৯৮৫ সাল থেকে এটি রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত রয়েছে, যার সব প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে মুসলিম ধর্মীয় উপাসনালয় ও ওয়াকফ সম্পত্তি টার্গেট করার আরও একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। এবার মিরাটের খরখুদা থানার অভ্যন্তরে অবস্থিত ঐতিহাসিক জামে মসজিদকে (যা স্থানীয়ভাবে ‘থানে ওয়ালি মসজিদ’ নামে পরিচিত) থানার নিজস্ব জমি দাবি করে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।পুলিশের পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল গাফফারের ওপর একটি আইনি নোটিশ জারি করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মালিকানার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছে, অন্যথায় মসজিদটি সরিয়ে নেওয়ার বা উচ্ছেদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে।রাজস্ব বিভাগের একটি কথিত জরিপের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করেছে যে, খরখুদা থানা চত্বরের খাসরা নম্বর ১২১৭-এর অধীনে থাকা ৬,৪৫০ বর্গমিটার জমির একটি অংশ দখল করে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিথোরের সার্কেল অফিসার প্রমোদ কুমার সিং এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) রাজপাল সিং জানান, গত ১৩ জুন (শনিবার) এই নোটিশ জারি করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বলেন, মসজিদটি বহু বছরের পুরোনো হলেও সম্প্রতি জমি পরিমাপের পর এই বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।ওয়াকফ বোর্ডের নথি নিয়ে মসজিদ কমিটির পাল্টা চ্যালেঞ্জপ্রশাসনের এই আকস্মিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মসজিদের ইমাম আবদুল গাফফার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই জমিটি কোনো অবৈধ সম্পত্তি নয়, বরং ১৯৮৫ সাল থেকেই এটি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে আইনগতভাবে নিবন্ধিত।ইমাম আরও জানান যে, মসজিদটি উত্তর প্রদেশের ওয়াকফ সম্পত্তির অংশ এবং এর সপক্ষে সব ধরনের অকাট্য আইনি দলিল ও ঐতিহাসিক প্রমাণপত্র ইতিমধ্যেই পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতেই কয়েক দশকের পুরোনো এই ইবাদতখানাকে হঠাৎ করে ‘অবৈধ’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার কর্মীরা। বর্তমানে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির পর নথিপত্র যাচাইয়ের নামে বিষয়টি অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ