প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
হিন্দু যুবককে জোরপূর্বক 'জয় শ্রী রাম' বলতে ও মুসলমানদের গালি দিতে বাধ্য করল উগ্রবাদী দল
ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুরে এক হিন্দু তরুণকে ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী। একই সাথে তাকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর গালিগালাজ করতেও বাধ্য করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভারতের উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং উগ্রবাদের এক নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে। এবার কোনো সংখ্যালঘু মুসলিম নয়, বরং খোদ হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে এবং মুসলমানদের গালি দিতে বাধ্য করেছে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফতেহপুর এলাকায় ক্রিকেট খেলার মাঠ থেকে এক তরুণকে একদল লোক ঘিরে ধরেছে। ভুক্তভোগী তরুণটি 'ঠাকুর' (ক্ষত্রিয়) সম্প্রদায়ের। উগ্রবাদী দলটি তাকে জেরা করে এবং বলে যে, হিন্দু হিসেবে 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দেওয়া তার বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। তরুণটি প্রথমে এই অন্যায্য দাবির তীব্র বিরোধিতা করে এবং স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু চারপাশ থেকে উগ্র জনতার ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকিতে শেষ পর্যন্ত সে স্লোগান দিতে বাধ্য হয়।ভিডিওতে আক্রমণকারীদের একজনকে বলতে শোনা যায়, "যতদিন বেঁচে আছিস, তোকে 'জয় শ্রী রাম' বলতে হবে। যদি না বলিস, তোর হাত-পা আস্ত রাখা হবে না।" এখানেই শেষ নয়, ওই দলটির কয়েকজন সদস্য তরুণটিকে বাধ্য করে যেন সে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নোংরা ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে গালিগালাজ করে। ভিডিওতে আক্রমণকারীদের মধ্যে একজনকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির (BJP) দলীয় উত্তরীয় পরা অবস্থায় দেখা গেছে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, উত্তরপ্রদেশে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক বছরে সেখানে বিশেষ করে মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করে জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ানোর এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর আগে কানপুরে এক ১৬ বছরের দলিত কিশোরকে বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি সংবলিত ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেওয়ার অপরাধে মারধর করে 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করা হয়েছিল। দুমরিয়াগঞ্জে এক প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তিকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে প্রসাদ নেওয়ার জন্য এই স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। আগ্রার তাজমহল এলাকায় এক প্রবীণ মুসলিম ক্যাব চালককেও একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।তবে ফতেহপুরের এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, উগ্র হিন্দুত্ববাদের এই সামাজিক পুলিশিং এবং জবরদস্তিমূলক আচরণ এখন শুধু সংখ্যালঘুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং যে কোনো স্বাধীনচেতা নাগরিক—যিনি তাদের চাপিয়ে দেওয়া উগ্র পরিচয় ধারণ করতে চান না, তাকেই এই চরমপন্থার শিকার হতে হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ