প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
বিহারে গোমাংস বিক্রির মিথ্যা অপবাদে হোটেল মালিক ও তার নাবালক সন্তানকে নির্মম নির্যাতন
ভারতের বিহার রাজ্যের পূর্ণিয়া জেলায় গোমাংস বিক্রির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক মুসলিম হোটেল মালিক এবং তার নাবালক সন্তানকে নির্মমভাবে মারধর ও প্রকাশ্য দিবালোকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে চরম হেনস্তা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। গত ১৪ জুন (রবিবার) পূর্ণিয়ার গোকুলপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে জানা যায়, হোটেলে কোনো ধরনের গোমাংস ছিল না; মূলত হোটেলের বিল পরিশোধ না করার জন্যই স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী নেতা অভিজিৎ কুমার যাদব ও তার সহযোগীরা এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।ভারতের বিহারে আবারও উগ্র হিন্দুত্ববাদের চরম ও নৃশংস রূপ সামনে এসেছে। এবার খাবারের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম হোটেল ব্যবসায়ী ও তার ছোট সন্তানকে 'গোমাংস বিক্রির' মিথ্যা অপবাদে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পূর্ণিয়া জেলার কে নগর থানার অন্তর্গত গোকুলপুর এলাকায়। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় উগ্রবাদী নেতা অভিজিৎ কুমার যাদবের নেতৃত্বে একদল হিন্দুত্ববাদী কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই হোটেল মালিক ও তার নাবালক ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার ভিডিও সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা ফ্রিজে কী আছে তা নিয়ে জেরা করতে করতে শিশুটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। বাবা যখন নিজের সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে যান, তখন হামলাকারীরা চেয়ার ছুঁড়ে মেরে তাদের রক্তাক্ত করে। অবুঝ শিশুটি কান্নাকাটি করে তার বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও উগ্রবাদীদের মন গলেনি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে এবং এই নরকীয় নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবা-ছেলে দুজনেই কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য হন। এমনকি হামলাকারীদের পায়ে ধরে ক্ষমাও চাইতে দেখা যায় ওই হোটেল মালিককে।পুলিশের তদন্ত ও সত্য উন্মোচনঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পূর্ণিয়া জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। গত ১৭ জুন পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, উক্ত হোটেলে কোনো গোমাংস বা কোনো "আপত্তিকর" সামগ্রী পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গোমাংসের দাবিটি সম্পূর্ণ "বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন"।হোটেল মালিকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত অভিজিৎ কুমার যাদব ও তার দলবল হোটেলে খাবার খাওয়ার পর বিল দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মালিক যখন ন্যায্য টাকা দাবি করেন, তখনই বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে এবং টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা 'গোমাংসের' মিথ্যা নাটক সাজায় এবং ফ্রিজ তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালায়।এই ঘটনায় কে নগর থানায় একটি মামলা (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মারধর এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মূল হোতাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে উগ্রপন্থীদের এই প্রকাশ্য জুলুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু মুসলিমদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ