প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
গণহত্যার মাধ্যমেই ইসলামের অবসান ঘটবে বলে হুমকি হিন্দুত্ববাদী নেতার
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি ধর্মীয় সমাবেশ থেকে প্রকাশ্য গণহত্যার উস্কানি দিয়েছেন চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী নেতা অনিল যাদব। গত ২৩ জুন (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উগ্র ও ইসলামভীতিমূলক বক্তব্য দিতে এবং উস্কানিমূলকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে মুসলিমদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের বিতর্কিত অবতারণা করে তিনি দাবি করেন, গণহত্যার মাধ্যমেই কেবল ইসলামের অবসান সম্ভব।ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থার এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক চিত্র পুনরায় সামনে এসেছে। হিন্দুত্ববাদী নেতা অনিল যাদব এক ধর্মীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময় অত্যন্ত আপত্তিকর ও উগ্র মন্তব্য করে বলেছেন যে, ইসলামের চূড়ান্ত অবসান কেবল গণহত্যার মাধ্যমেই সম্ভব।গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জনসমক্ষে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত এবং কপালে তিলক আঁকা এক বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন অনিল যাদব। চরম উস্কানিমূলক ও উগ্র সাম্প্রদায়িক ভাষায় তিনি বলেন, "ইসলামের শেষ হবে সংঘর্ষ বা গণহত্যার মাধ্যমে।" নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাজনের রক্তাক্ত ইতিহাস টেনে আনেন।অনিল যাদব সমাবেশে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "হয় তারা আমাদের শেষ করবে, না হয় আমরা তাদের শেষ করব। যে আগে আঘাত করতে পারবে, জয় তারই হবে। ১৯৪৭ সালেও এটাই ঘটেছিল।"এখানেই শেষ নয়, মুসলিম সম্প্রদায়কে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে এবং তাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ ছড়িয়ে তিনি দাবি করেন, "আমরা যখন কাঁদতাম, তখন তারা হাসত কারণ তারা ধীরে ধীরে জয়ী হচ্ছিল।" এরপর তিনি সমবেত উন্মত্ত জনতাকে প্ররোচিত করে বলেন, "এখন সেই গাদ্দারদের (বিশ্বঘাতকদের) হত্যা করতে হবে।"উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ অঞ্চলটি বেশ কিছুদিন ধরেই চরম সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সুসংগঠিত উগ্র ডানপন্থী দল 'হিন্দু রক্ষা দল'-এর প্রকাশ্য তৎপরতা ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এই মেরুকরণগ্রস্ত রাজ্যে দিন দিন সাম্প্রদায়িক বৈরিতা ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল এই উগ্র ঘৃণামূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ