প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
রংপুরে মসজিদে খতমে নবুওয়ত আলোচনায় পুলিশের বাধার নিন্দা ও ১৪ জুলাই নতুন সম্মেলনের ডাক
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে জুমার নামাজের পর মসজিদে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত বিষয়ক ঈমানী আলোচনা অনুষ্ঠানে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ বাংলাদেশ। একই সাথে স্থানীয় মুসলমানদের সচেতন করার লক্ষ্যে আগামী ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) গোপালপুর ইউনিয়ন স্কুল মাঠে এক বিশাল খতমে নবুওয়ত সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জুরাইনে সংগঠনের এক জরুরি পরামর্শ সভা থেকে এই ঘোষণা ও নিন্দা জানানো হয়।রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের একটি মসজিদে গতকল জুমার নামাজের পর খতমে নবুওয়ত বিষয়ক ঈমানী আলোচনা অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক বাধার সৃষ্টির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বৈষম্যমূলক ঘটনার প্রতিবাদে এবং স্থানীয় তাওহীদী জনতাকে সচেতন করার লক্ষ্যে আগামী ১৪ জুলাই, রোজ মঙ্গলবার গোপালপুর ইউনিয়ন স্কুল মাঠে খতমে নবুওয়ত সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।আজ ৪ জুলাই, শনিবার, সকাল ৮টায় রাজধানীর জুরাইনে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক, আমীরে শরীয়ত আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর-এর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রংপুরের বদরগঞ্জে মুসলমানদের ওপর চলমান নানামুখী নির্যাতন ও উসকানির বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।পরামর্শ সভায় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সাধারণ মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানি, নির্যাতন ও জবরদস্তির শিকার হচ্ছেন। সেখানে সাধারণ মুসলমানদের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল এবং সুকৌশলে ধর্মান্তরের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি কাদিয়ানিদের ন্যাশনাল আমিরের ওই এলাকায় রহস্যজনক উপস্থিতি ও তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক এবং উত্তপ্ত করে তুলেছে।সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাদিয়ানিদের এসব অন্যায় ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রতিকার বা পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো মুসলমানদের নিজেদের মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত ঈমানী আলোচনা কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করেছে। পুলিশের এই ভূমিকা কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন এবং এর পেছনে জড়িত দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।আগামী ১৪ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গোপালপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য খতমে নবুওয়ত সম্মেলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং মুসলমানদের আকীদা রক্ষার লক্ষ্যে একটি দাওয়াতিক কর্মসূচি। এই ঈমানী ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যদি কোনো প্রকার অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা হয় কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রদানে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বা কালক্ষেপণ করা হয়, তবে তার পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির সকল দায়-দায়িত্ব প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।আজকের এই জরুরি পরামর্শ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের সদস্য সচিব আল্লামা মহিউদ্দিন রাব্বানী, কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা রশিদ আহমদ, সংগঠনের সমন্বয়ক মুফতি শুয়াইব ইবরাহীম, মুফতি আরিফুল ইসলাম, মাওলানা আবু ইউসুফ, মুফতি শফিক সাদীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মুমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই সিদ্ধান্ত ও প্রতিবাদের কথা জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ