প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
অধিক ভিউ ও অর্থ উপার্জনের জন্য ‘বহুপতিত্ব’ প্রচারকারী নারী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার গ্রেপ্তার
সোশ্যাল মিডিয়ার অনিয়ন্ত্রিত পরিধি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে মিসরীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে পারিবারিক কাঠামো ধ্বংসকারী এবং দ্বীনি মূল্যবোধের পরিপন্থী উস্কানিমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে এক নারী ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানী কায়রোর মাতারিয়া এলাকায় একটি ঝটিকা অভিযানে তাকে আটক করা হয়। জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেওয়া ওই নারীর ভিডিওগুলো হস্তগত করার পর দেশটির বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।নজরদারিতে রেখেছিল বিশেষ ‘নৈতিকতা পুলিশ’মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘স্পেশালাইজড পুলিশ সেক্টর’-এর নৈতিকতা রক্ষা বিষয়ক মহাপরিদপ্তর সাইবার নজরদারির সময় এই তরুণীর অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত আপত্তিকর ও সন্দেহজনক কনটেন্টের সন্ধান পায়। সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও শারীরিক তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত নারী তার প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে প্রকাশ্যেই কিছু জঘন্য ও কেলেঙ্কারীমূলক দাবির সপক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন।ভিডিওগুলোতে মূলত দুটি প্রধান এজেন্ডা প্রমোট করা হচ্ছিল:বহুপতিত্বের প্রচার: নারীরা একই সাথে একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে—ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী এমন বিকৃত ও তথাকথিত 'বহুপতিত্ব' ব্যবস্থার সুবিধার কথা জোরালোভাবে প্রচার করা।পরিচয়হীন সন্তান জন্মদানের আহ্বান: কোনো ধর্মীয় বা আইনি বিয়ের বন্ধন ছাড়াই, বংশপরিচয়হীন সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সমাজকে উস্কানি দেওয়া, যা মূলত ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ও সামাজিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।মিসরীয় কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, এই ধরনের ধারণা ও বিকৃত চিন্তাভাবনা মিসরের পারিবারিক কাঠামোর মূল ভিত্তি, নৈতিক মূল্যবোধ, সাধারণ শিষ্টাচার এবং সমস্ত আসমানি কিতাব ও ঐশী শরিয়তের বিধানের সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।মাতারিয়া এলাকায় ভোররাতের অভিযানপাবলিক প্রসিকিউশন (সরকারি আইনজীবী) অফিস থেকে সুনির্দিষ্ট তল্লাশি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী অ্যাকশনে নামে। রাজধানী কায়রোর মাতারিয়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত তার স্মার্টফোনটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় উক্ত ডিভাইসে অপরাধের আলামত সম্বলিত বেশ কিছু মূল ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাডমিন প্যানেল ও পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।স্বীকারোক্তি: "সবকিছুই ছিল ভিউ, ট্রেন্ড আর টাকার জন্য"আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে অভিযুক্ত নারী তার অপরাধ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। সমাজ ও ধর্মের তোয়াক্কা না করে এমন উস্কানিমূলক কনটেন্ট তৈরির পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বড় বিতর্ক তৈরি করা। এর মাধ্যমে সে রাতারাতি ভিউ বাড়িয়ে 'ট্রেন্ডিং'-এ আসতে চেয়েছিল, যাতে করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করা যায়। লোভের বশবর্তী হয়ে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত এই নারীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ