প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
১০ লাখ ডলারের লোভনীয় অফার প্রত্যাখ্যান: মাতৃভূমি বেচলে ঈমানও বিক্রি হয়ে যায়
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মসজিদ আল-আকসা ও বোরাক স্কয়ার সংলগ্ন নিজের মাত্র এক কক্ষের ছোট ঘরটি বিক্রি করতে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বিশাল প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। অবৈধ ইসরাইলি দখলদার ও বসতি স্থাপনকারীদের সমস্ত প্রলোভন ও চাপ উপেক্ষা করে তিনি বায়তুল মাকদাসের পবিত্রতা রক্ষায় অটল রয়েছেন। আয়েশা মসলুহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "যে তার জন্মভূমি বিক্রি করে, সে তার ধর্ম, সম্মান এবং নীতিও বিক্রি করে দেয়।"অবরুদ্ধ ও দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে (আল-কুদস) পবিত্র মসজিদ আল-আকসা এবং বোরাক দেয়াল (যা দখলদাররা তথাকথিত 'ওয়েস্টার্ন ওয়াল' নামে ডেকে থাকে) সংলগ্ন এলাকা থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করতে প্রতিদিন নানা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইহুদিবাদী শক্তি। শুধু সামরিক বা রাজনৈতিকভাবেই নয়, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর বিপুল অংকের অর্থ দিয়ে কিনে নিয়ে এলাকাটি ইহুদি করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও বায়তুল মাকদাসের পাহারাদার হয়ে অটল দাঁড়িয়ে আছেন ফিলিস্তিনি মুসলিমরা।তেমনি এক সাহসী ও ঈমানদার নারী আয়েশা মসলুহি। উৎপত্তিতে মরক্কো বংশোদ্ভূত এই ফিলিস্তিনি নারীর একটি মাত্র কক্ষ ও একটি রান্নাঘরবিশিষ্ট ছোট্ট এক বাড়ি রয়েছে আল-আকসার পাশেই। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গ্রাসকারী ইহুদিবাদী দখলদাররা তার এই ছোট্ট বাড়িটির জন্য ১০০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) অফার করেছিল। কিন্তু ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান আয়েশা মসলুহি সেই বিশাল টাকার লোভকে এক মুহূর্তেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা মসলুহি বলেন, "আমি সেই দখলদারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম—মাত্র এক রুমের এত ছোট একটা ঘরের জন্য কেন তুমি আমাকে ১০ লাখ ডলার দিতে চাও? সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই আমাকে বলেছিল, 'আমরা শুধু একটা পয়েন্ট থেকে শুরু করতে চাই। একবার যদি একটি ঘর দখল করতে পারি, তবে বাকিগুলোও ধীরে ধীরে আমাদের হয়ে যাবে।' সে প্রকাশ্যে এই কথা বললেও, ইনশাআল্লাহ তারা শুরু করার জন্য কাউকে পাবে না।"আয়েশা মসলুহি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "যে তার মাতৃভূমি বিক্রি করে, সে নিজের দ্বীন, সম্মান ও চরিত্রও বিক্রি করে দেয়। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে এমন কোনো আরব বা মুসলিম নিজের ধর্ম ও মাতৃভূমি বিক্রি করবে না।"ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বমসলুহি জানান, তার বাড়ির ওপর দখলদারদের এত চোখ পড়ার মূল কারণ হলো এর কৌশলগত অবস্থান। এটি বোরাক স্কয়ারের একেবারেই কাছে অবস্থিত। ইহুদিবাদীরা এই এলাকাকে নিজেদের জন্য পবিত্র দাবি করে এবং আশেপাশে কোনো আরব বা মুসলিমদের উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ইহুদি সংস্থাগুলো (যেমন জুয়িশ এজেন্সি) বিশেষ করে আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে এই দখলদারদের পেছনে ঢালছে। দখলদারদের বলা হচ্ছে, "দামের কথা চিন্তা করো না, ঘরগুলো কিনে নাও, টাকা আমরা দেব।" পাশাপাশি ইসরাইলি দখলদার সরকারও তাদের সব ধরনের আর্থিক ও আবাসিক সুবিধা দিচ্ছে।আল-আকসাকে জীবন্ত রাখার আকুল আবেদনআয়েশা মসলুহি বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমাদের আল-কুদসে এবং আল-আকসার চারপাশে টিকে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমি সবসময় আল-কুদসের মানুষকে বলি—আমাদের মসজিদ আল-আকসাকে সব সময় প্রাণবন্ত রাখতে হবে। শুধু নামাজের সময় নয়, এই মসজিদ যেন সব সময় মুসলিমদের উপস্থিতিতে গমগম করে। কারণ তারা প্রতিদিন নতুন নতুন দল পাঠিয়ে আল-আকসাকে ইহুদিকরণ করার চেষ্টা করছে।"তিনি তুর্কি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তুর্কিরা কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া কেবল আল-আকসা ও কুদসের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্মিক টানের কারণে বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মসলুহি আশা প্রকাশ করেন, সমগ্র মুসলিম বিশ্ব আল-আকসার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ