প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সিঙ্গাপুরে কনসার্টে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোয় ‘ম্যাসিভ অ্যাটাক’-এর বিরুদ্ধে তদন্ত
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক কনসার্টে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করার অভিযোগে প্রখ্যাত ব্রিটিশ ট্রিপ-হপ মিউজিক ব্যান্ড 'ম্যাসিভ অ্যাটাক'-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। ইভেন্ট লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যান্ডটির বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত ও গাজায় চলমান বৈষম্যের শিকার মানুষের পক্ষে সোচ্চার থাকা এই ব্যান্ডটির সমর্থনে দর্শকরাও কনসার্টে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' স্লোগান তোলেন।আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনের মজলুম জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলা এবং সংহতি প্রকাশ করায় আবারও শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা। সিঙ্গাপুরে আয়োজিত এক কনসার্টে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উন্মোচন করায় ব্রিটিশ ব্যান্ড 'ম্যাসিভ অ্যাটাক'-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গাপুর পুলিশ।স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কনসার্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স শর্ত ভঙ্গের সম্ভাব্য অভিযোগে ব্যান্ডটিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কনসার্টের একপর্যায়ে ম্যাসিভ অ্যাটাকের দুই সদস্য মঞ্চে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরেন। এ সময় কনসার্টে উপস্থিত হাজারো দর্শক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে 'মুক্ত ফিলিস্তিন' (Free Palestine) বলে স্লোগান দিতে থাকেন।নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই মানবিক সংহতিকে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর চোখে দেখছে। দেশটির কঠোর আইনে পাবলিক স্থানে অনুমতি ছাড়া যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতীক বা পতাকা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ ৫০০ সিঙ্গাপুরী ডলার জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রখ্যাত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা সোচ্চার হচ্ছেন। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংহতির ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও ফিলিস্তিনপন্থীদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করছে। ম্যাসিভ অ্যাটাক এর আগেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা অবিচারের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রেখে এসেছে। পুলিশি তদন্ত সত্ত্বেও ব্যান্ডটির এই সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সচেতন মানুষের নজর কেড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ