প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ধ্বংসস্তূপে আড়াই বছর পর উদ্ধার শতাধিক মরদেহ, গাজায় ‘আল-সাবেরাহ’ গণজানাজায় শেষ বিদায়
প্রায় আড়াই বছর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকার পর গাজা সিটির আল-সাবেরাহ এলাকায় নিহত শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করে গণজানাজা সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আবু শরিআহ ও আল-হাসাইনাহ পরিবারের সদস্যদের কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানান স্বজন ও সাধারণ মানুষ। ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও হৃদয়বিদারক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।ফিলিস্তিনি সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের আল-সাবেরাহ এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে আবু শরিআহ ও আল-হাসাইনাহ পরিবারের ৩০৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪০ জন শিশু, ৩০ জন নারী এবং ৭ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব এবং যুদ্ধজনিত প্রতিকূলতার কারণে নিহতদের অনেকের মরদেহ দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচেই চাপা পড়ে ছিল। সম্প্রতি উদ্ধারকারী দল ব্যাপক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। মঙ্গলবার এসব মরদেহ একসঙ্গে দাফন করা হয়।তবে উদ্ধারকাজ এখনও শেষ হয়নি। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫৭ জন এখনও নিখোঁজ অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা অবস্থায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা এই গণজানাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল ঘটনাটিকে ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের মহাসচিব মুস্তফা বারঘৌতি এটিকে ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণজানাজা বলে উল্লেখ করেন।গবেষক ড. সাঈদ আল-হাজ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মতে, এই গণদাফন শুধু একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের মধ্যে বসবাসকারী গাজাবাসীর মানবিক বিপর্যয় ও শোকের প্রতীক।বিশ্লেষকদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকা স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের এই প্রক্রিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও মানবিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস, উদ্ধার কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ