প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান: চালুর পথে কুমিল্লা বিমানবন্দর, বদলে যাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি
দীর্ঘ ৩২ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবসান ঘটতে যাচ্ছে কুমিল্লা বিমানবন্দরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। সংস্কার ও আধুনিকায়ন শেষে পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই বিমানবন্দরটি। এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে মাত্র ২৫ মিনিটে কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ আশেপাশের ৬টি জেলার লাখ লাখ প্রবাসী ও স্থানীয় অধিবাসীদের যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি এটি দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কুমিল্লা বিমানবন্দরে কোনো অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট ওঠানামা না করলেও এটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল না। বর্তমানে বিমানবন্দরটির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা সচল রয়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে নেভিগেশনাল সিগন্যাল প্রদান করে বিমানবন্দরটি বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা (বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা) রাজস্ব আয় করে আসছে।এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমিল্লা বিমানবন্দরটিকে পুরোদমে সচল করতে বিশাল কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই। রানওয়ে কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং টার্মিনাল ভবন সংস্কারের জন্য মাত্র ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই এটি থেকে পুরোদমে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব। ইতিমধ্যে বেবিচক নেভিগেশন ও সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।প্রবাসী ভোগান্তির অবসান: কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাগুলো দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কপথের তীব্র যানজটে আটকে প্রবাসীদের বাড়ি ফিরতে হয়। বিমানবন্দরটি চালু হলে কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে তারা মাত্র কয়েক মিনিটে নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারবেন।কুমিল্লা ইপিজেড ও বৈদেশিক বিনিয়োগ: বিমানবন্দরের পাশেই অবস্থিত কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)। ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের যানজটের ভয়ে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা (বায়ার) সরাসরি কুমিল্লা পরিদর্শনে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিমানবন্দরটি চালু হলে বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।বিপুল রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা: ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলে বিমান অবতরণ (ল্যান্ডিং), পার্কিং এবং অন্যান্য এভিয়েশন ফি বাবদ বছরে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমিল্লা বিমানবন্দর সচল করা কেবল এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন নয়, বরং প্রবাসী পরিবারগুলোর সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সমন্বিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ