প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের কথিত গুরু আসোরামকে ২০ দিনের প্যারোল দিল রাজস্থান হাইকোর্ট
২০১৩ সালে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ‘ধর্মগুরু’ আসোরামকে ২০ দিনের নিয়মিত প্যারোল প্রদান করেছে রাজস্থান হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য সরকার তার প্যারোল আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর্যাপ্ত যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জীত পুরোহিতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ লক্ষ্য করেন যে, ৮৫ বছর বয়সী আসোরাম ইতোমধ্যে ১৩ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন এবং পূর্বের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের শর্তাবলী যথাযথভাবে মেনে চলেছেন।২০১৩ সালে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ভারতের বিতর্কিত ও স্বয়ংঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ আসোরামকে ২০ দিনের নিয়মিত প্যারোল মঞ্জুর করেছে রাজস্থান হাইকোর্ট। সোমবার এক আদেশে আদালত রাজস্থান সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলে যে, আসামীর প্যারোল আবেদন খারিজের স্বপক্ষে রাজ্য কোন সুনির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত কারণ তুলে ধরতে পারেনি।ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা এবং বিচারপতি সঞ্জীত পুরোহিতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করেন, ৮৫ বছর বয়সী এই আসামী ইতোমধ্যে ১৩ বছর ১ মাস ২৪ দিন কারাগারে অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, পূর্বে বিভিন্ন সময় দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদে আসোরাম জামিনের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেননি, আত্মগোপনের চেষ্টা করেননি, সাক্ষীদের প্রভাবিত করার প্রয়াস চালাননি বা আইন-শৃঙ্খলার কোনো অবনতি ঘটাননি।রাজ্য সরকারের আপত্তি খারিজহাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, যোধপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে আসোরামকে ২০ দিনের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে। এর জন্য তাঁকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং ২৫ হাজার টাকার দুটি জামানত জমা দিতে হবে।শুনানি চলাকালে রাজস্থান রাজ্য সরকার আদালতকে জানায় যে, যোধপুর জেলা কালেক্টরের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি আগেই আসোরামের প্যারোল আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকেও প্যারোলের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে আসামী প্যারোলে মুক্তি পেলে পলাতক হতে পারে।রাজ্য সরকার ১৯৫৮ সালের ‘রাজস্থান বন্দি মুক্তি (প্যারোল) বিধি’-র ১৪(এ) ধারা উল্লেখ করে যুক্ত পেশ করে যে, আসোরামের বিরুদ্ধে রাজস্থানের বাইরেও একাধিক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং গুজরাটের গান্ধীনগরের একটি আদালতও তাকে অন্য একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এছাড়া, আসোরাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাকে চিকিৎসাগতভাবে প্যারোলের জন্য ফিট ঘোষণা করা হয়নি এবং তাকে মুক্তি দিলে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে দাবি করে সরকার।সরকারের আশঙ্কাকে ‘কাল্পনিক’ আখ্যা আদালতেরহাইকোর্ট রাজ্য সরকার ও পুলিশের এই আপত্তি ও উদ্বেগকে ভিত্তিহীন এবং অনুমাননির্ভর (speculative) হিসেবে খারিজ করে দেয়। বিচারক বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানান, রাজস্থানের মামলায় আসোরামের প্যারোলের যোগ্যতা কেবল ‘রাজস্থান বন্দি মুক্তি (প্যারোল) বিধি, ১৯৫৮’ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে। অন্য কোনো রাজ্যে বিচারাধীন মামলা বা সাজা অন্য কোনো আইন দ্বারা পরিচালিত হবে এবং শুধুমাত্র তার ভিত্তিতে এই মামলার প্যারোল আটকানো যায় না।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মে হাইকোর্ট ২০১৩ সালের সেই যৌন নিপীড়ন মামলায় আসোরামের দোষী সাব্যস্তকরণ এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছিল।সুপ্রিম কোর্টে স্বাস্থ্যগত জামিনের আবেদন বিচারাধীনঅন্যদিকে, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে আসোরামের করা আরেকটি আবেদনের শুনানি চলছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার শুনানিকালে সর্বোচ্চ আদালতকে জানানো হয়, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে যে আসোরামের এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই, তবে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাগত নজরদারি প্রয়োজন।বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেস এবং বিচারপতি পি. বি. বরালে সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই সংক্রান্ত পরবর্তী শুনানির জন্য ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ