প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
পঞ্চগড়ে ইসলাম গ্রহণ করে বিয়ে: নবমুসলিম দম্পতিকে পাশবিক নির্যাতন ও চুল কাটার অভিযোগ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অপরাধে এক নবমুসলিম নারী ও তাঁর স্বামীকে চরম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়ে মোছা. কুলসুম বেগ (পূর্বনাম কনিকা রায়) নাম ধারণ করা ওই নারী ও তাঁর স্বামী মো. দারগালীকে বসতবাড়িতে আটকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া, শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটানো এবং সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। ১০ আগস্ট রাতে সংঘটিত এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।ইসলাম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার মৌলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নেমে এসেছে ভয়াবহ নির্যাতন। স্থানীয় চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা কনিকা রায় গত ১২ জুন নিজের ইচ্ছায় সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর নতুন নাম রাখেন মোছা. কুলসুম বেগ। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি শরিয়াহ মোতাবেক মো. দারগালীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।তবে স্বাধীনভাবে নিজের আকীদা ও ধর্ম বেছে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি স্থানীয় একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দারগালী ও কুলসুম দম্পতির বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা কোনো কথা না শুনেই এই নবমুসলিম দম্পতিকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।পরবর্তীতে কুলসুম বেগমকে টেনে-হিঁচড়ে অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন—তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শারীরিক যন্ত্রণাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে শরীরে ছিটানো হয় তীব্র ঝাল মরিচের গুঁড়া। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, হামলাকারীরা তাঁদের ঘর থেকে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গৃহস্থালি মালামাল এবং ১১ মণ বাদাম জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়। অপরাধ ঢাকতে ও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী কুলসুমের কাছ থেকে জোরপূর্বক তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগও উঠে এসেছে।বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ধর্ম পালন ও নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে। একজন নবমুসলিম নারীর ওপর এমন নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ কেবল ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ