প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে মধ্যপ্রদেশ: অধিকার রক্ষায় ৫০টি জেলায় মুসলিমদের স্মারকলিপি প্রদান
ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের সংখ্যালঘু ও মুসলিম বিরোধী নীতি এবং ইসলামী শরিয়াহ আইনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে বিতর্কিত 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' (ইউসিসি) পাসের প্রতিবাদে সরব হয়েছে মধ্যপ্রদেশের মুসলিম সম্প্রদায়। বুধবার রাজ্যের প্রায় ৫০টি জেলার প্রথমার্ধে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিম ও নারী বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। বিধানসভা সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের নেতা আরিফ মাসুদের আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন রক্ষায় রাজ্যজুড়ে নতুন এক গণআন্দোলনের প্রথম ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব ও ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অংশ হিসেবে উত্তরাখণ্ড, আসাম ও গুজরাটের পর এবার মধ্যপ্রদেশেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাস করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইন পাসের মাধ্যমে মুসলমানদের বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ও পরিবারিক জীবনের শরিয়াহভিত্তিক বিধিবিধান বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে।এরই অংশ হিসেবে বুধবার মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৫০টি জেলায় একযোগে বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান অভিযানের আয়োজন করে রাজ্যের মুসলিম সমাজ। রাজ্যের রাজধানী ভোপালে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কালেক্টরেট কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে লিখিত প্রতিবাদপত্র জমা দেন। ভোপাল ছাড়াও শাহজাহপুর, ইন্দোর, গোয়ালিয়র ও জবলপুরসহ বিভিন্ন জেলা সদরে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে।সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য ও কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ স্পষ্ট জানান, “ভারতের সংবিধানের ধারা ২৯ ও ২৫ দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত আইন অনুসরণের স্পষ্ট মৌলিক অধিকার দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন এই সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করে জোরপূর্বক মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয় আইন চাপিয়ে দিতে চাইছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি কেবল স্মারকলিপিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রদেশের কোণে কোণে পর্যায়ক্রমিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই মুসলিম বিরোধী আইন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হবে।উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় চরম হট্টগোল ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিতর্কিত ইউসিসি বিল ২০২৬ পাস করিয়ে নেয় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এ আইনকে কার্যকর করার ঘোষণা দিলেও তা সরাসরি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো ও মুসলিম পার্সোনাল ল'-এর ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছেন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা। কাউমি টাইমসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হচ্ছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের বেঁচে থাকার অধিকারের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বস্তরের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম জোরদার করা সময়ের দাবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ