প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কিশোরসহ নিহত ২
দখলকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী চরমপন্থী ইসরায়েলি ও সেনাবাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি কিশোর এবং সাবেক এক সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার হিভরনের খিরবেত হামরুশে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১৭ বছরের করিম সনদি শালালদাহ এবং জেনিনে সেনা অভিযানে ৫৮ বছরের ফাতহি খাজেম নিহত হন। অব্যাহত হামলা এবং অবৈধ বসতির তীব্র বিস্তারের মুখে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনী জনগোষ্ঠী চরম স্থানচ্যুতির ঝুঁকিতে পড়েছে।পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারী ও সেনাসদস্যদের সহিংসতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার হিভরনের কাছে অবস্থিত খিরবেত হামরুশে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে মারাত্মক আহত হন ১৭ বছর বয়সী করিম সনদি শালালদাহ। বুকে গুলিবিদ্ধ করিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই একই হামলায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা (Wafa)-র তথ্যমতে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সশস্ত্র উগ্র ইসরায়েলিদের একটি বড় দল খিরবেত হামরুশ এলাকায় তাণ্ডব চালায়। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।এদিকে, শুক্রবার সকালে জেনিনে সংঘটিত অপর এক নৃশংস ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী ফাতহি খাজেম নামে এক সাবেক ফিলিস্তিনি সামরিক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। ফিলিস্তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এই অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলকে নিজ বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় গুলি করে হত্যা করা হয়।ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সামরিক অভিযানের সময় খাজেম ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েলি বাহিনী লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি এবং ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসকদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেয় তারা।একই দিন সকালে জেনিনের কাছে পরিচালিত অপর এক অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে লক্ষ্য করে তাজা গুলি ছোঁড়ে দখলদার বাহিনী। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, বুকে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ কিশোরটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জেনিন থেকে অন্তত ছয় ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে দখলদার বাহিনী।গাজায় চলমান গণহত্যার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের এই সহিংসতা বস্তুত ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড থেকে উৎখাতের রাষ্ট্রীয় কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন মানবাধিকার বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ