প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদ করায় আর্জেন্টিনায় বিচারক পদচ্যুত
ফিলিস্তিনের গাজায় ইজরায়েলের ভয়াবহ গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং সোচ্চার অবস্থান নেওয়ায় আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ফেডারেল বিচারক আলফ্রেডো লোপেজকে পদচ্যুত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়াকে সেমিটিজম-বিরোধী এবং "গুরুতর আচরণগত অসদাচরণ" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির জুডিশিয়াল কাউন্সিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার ও গাজার মুসলিম সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলায় তাকে এই রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হতে হলো।আর্জেন্টিনায় গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা দেশটির সিনিয়র ফেডারেল বিচারক আলফ্রেডো লোপেজকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ইজরায়েলের সামরিক কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করে দেওয়া তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে "সেমিটিজম-বিরোধী" আখ্যা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দেশটির জুডিশিয়াল কাউন্সিল (Council of Magistrates) লোপেজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বিচারিক পদের অযোগ্য বলে রায় দেয়। কাউন্সিল দাবি করে, তার দেওয়া বক্তব্যগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন মন্তব্য নয়, বরং তা ইহুদি সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে নিয়মিত ও পদ্ধতিগতভাবে অপমানজনক আচরণের অংশ। বিশেষ করে লোপেজের শেয়ার করা ১৫টি পোস্ট এবং দেশের প্রতি আনুগত্য সংক্রান্ত একটি জনমত জরিপ নিয়ে এই তদন্ত পরিচালিত হয়।তবে বিচারক আলফ্রেডো লোপেজ তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি জানান, জনসাধারণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একজন নাগরিক হিসেবে তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী বক্তব্য দেননি। তিনি এই সিদ্ধান্তকে স্পষ্টতই একটি "আদর্শগত ও রাজনৈতিক নিপীড়ন" বলে উল্লেখ করেন।নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে লোপেজ বলেন, "আমি গত ৪০ বছর ধরে বিচারব্যবস্থায় সুনামের সাথে কাজ করে আসছি এবং কখনোই এই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়নি। আজ হঠাৎ করে আমি কীভাবে সেমিটিজম-বিরোধী হয়ে গেলাম? নাকি আসল কারণ হলো গাজায় ইজরায়েল রাষ্ট্রের পরিচালিত গণহত্যা—যা বিশ্বের সবাই নিজ চোখে দেখছে?"তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "গাজায় চলমান নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিন্দা জানানো কোনো ঘৃণা ছড়ানোর কাজ নয়; বরং এটি মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার বিশ্বজনীন দায়িত্ব।"উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার ইতিহাসে "সেমিটিজম-বিরোধী বক্তব্য" ও "ঘৃণাত্মক মন্তব্য"-এর অজুহাত দেখিয়ে কোনো ফেডারেল বিচারককে পদচ্যুত করার ঘটনা এটিই প্রথম। বিচারিক স্বাধীনতায় আঘাতকারী এই সিদ্ধান্ত দেশটির আইনি ও মানবাধিকার অঙ্গনে এক চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে বাকস্বাধীনতা দমন এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ওঠা আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ