প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনছে উপহাইকমিশন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে এক মর্মান্তিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ আজ শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন প্রয়োজনীয় যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তরের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে উপহাইকমিশন মরদেহ পরিবহন ও সংরক্ষণের সব ব্যয় নিজে বহন করার ঘোষণা দিয়েছে।আন্তর্জাতিক মুসলিম বিশ্ব এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিসেবে কওমি টাইমস গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার 'শিখা ইন' হোটেলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। এই হৃদযবিদারক ঘটনায় স্বজনদের কষ্ট লাঘবে এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।উপহাইকমিশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। তবে নিহত অপর বাংলাদেশি নাগরিক রেবতী সরকারের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানোয় তাঁর মরদেহ কলকাতাতেই সৎকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মরদেহগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ থেকে শুরু করে সীমান্ত পার করে দেশে পাঠানো পর্যন্ত সব ধরনের ব্যয় বহন করছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার 'পিস ওয়ার্ল্ড' হিমঘরে যথাযথ মর্যাদায় রাখা হয়।এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন এবং তাঁদের শিশু সন্তান শর্ণশীষ দত্ত-এই একই পরিবারের তিন সদস্যসহ মো. আকরাম আলীর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহও আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।পরবর্তীতে শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা মরদেহগুলো নিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে উপস্থিত হন। শুক্রবার রাতেই বাংলাদেশ মিশন এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ইস্যু করে, যাতে দেশে মরদেহ পরিবহনে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তাঁরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে ময়নাতদন্ত ও সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করেছে, যাতে স্বজনরা দ্রুততম সময়ে প্রিয়জনের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ