প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
ভারতের বাংলাভাষী মুসলিম নারী পুশব্যাক: শত নথি সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিতাড়নের অভিযোগ
নভি মুম্বাইয়ের সানপাডা থেকে খাবার কিনতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি ৪০ বছর বয়সী বাংলাভাষী মুসলিম নারী শাহিদা ফকির। গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার জানতে পারে, তাকে অবৈধ বাংলাদেশী সন্দেহে আটক করেছে চেম্বুর ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ভারতীয় নাগরিকত্বের একাধিক বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গভীর রাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে তাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা ভারতের মুসলিম ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান পুশব্যাক অভিযানের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করেছে।ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও সরকার পরিচালিত কথিত "অবৈধ অনুপ্রবেশকারী" হঠাও অভিযানের নামে আবারও এক বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বেআইনিভাবে সীমান্ত পার করার খবর এসেছে। মুম্বাইয়ের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা শাহিদা ফকিরকে তার নাগরিকত্বের যাবতীয় নথি থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।পরিবারের সরবরাহকৃত তথ্যানুযায়ী, ১৯৮৮ সালে ভারতের স্বরূপদহ গ্রামে জন্ম নেন শাহিদা। তার কাছে জন্মসনদ, ২০০৮ সালের ভোটার আইডি card, বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট, ভূমির দলিল এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের নাম থাকা সত্ত্বেও আইনগত তদন্ত ছাড়াই তাকে আটক করা হয়। আটক করার পর তাকে প্রথমে আসামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় গভীর রাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধ্য করা হয়।নিঝুম রাতে কাঁদা মাটির পথ পেরিয়ে কোনোমতে একটি স্থানীয় পরিবারের কাছে আশ্রয় পান শাহিদা। সেখান থেকে তিনি পরিবারকে ফোন করে জানান যে, তাকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।শাহিদার স্বামী জুম্মান ফকির অভিযোগ করে বলেন, "আমার স্ত্রীকে কেবল বাংলাভাষী এবং মুসলিম হওয়ার কারণে আটক ও পুশব্যাক করা হয়েছে। আমাদের ভোটার কার্ড ও জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। তারা উল্টো শাহিদার বাবা-মায়ের জন্মসনদ দাবি করে, যা আগের প্রজন্মের মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।"আন্তর্জাতিক আইন এবং ভারতীয় সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ২১ অনুচ্ছেদ (জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা) এবং ২২ অনুচ্ছেদের তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন চালানো হচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে।সাম্প্রতিক সময়ে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলোতে লক্ষাধিক বাংলাভাষী মুসলিমকে লক্ষ্য করে এ ধরনের কথিত "ডি-পোর্টেশন" ও "পুশব্যাক" ড্রাইভ চালানো হচ্ছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে জোরপূর্বক পুশব্যাকের ঘটনা কেবল শাহিদা ফকিরের ক্ষেত্রেই প্রথম নয়; এর আগে সTargetডুনালি খাতুন ও তার পরিবারের ক্ষেত্রেও একইভাবে তড়িঘড়ি করে বেআইনি পুশব্যাক চালানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে ভুল প্রমাণিত হয়।কওমি টাইমস বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, ভারতে মুসলিম ও বাংলাভাষী সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত এ ধরনের অবৈধ পুশব্যাক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ